নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত লাভ-ক্ষতির হিসেবে জামায়াত সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় থাকতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি অংশ। তারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করেছেন। যদিও দলটির নেতারা বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করে বলছেন, ইসলামী দলের ভোট ‘একবাক্সে’ পাঠানোর নীতিতে তারা অটল রয়েছেন। সমঝোতা থেকে বের হয়ে আসেনি এখনো ইসলামী আন্দোলন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত আসন বন্টনের কথা জানাতে ১১ দলের পক্ষে বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডাকেন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। বিকাল সাড়ে চারটায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তবে দিনভর নানা ঘটনার পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন…
Author: এম. সাইফুল ইসলাম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে টিকে থাকা নিয়ে ক্রমেই শঙ্কা বাড়ছে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীদের। যার নেপথ্যে রয়েছে, জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠনগুলোর নতুন তৎপরতা। এরই মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’র পক্ষে জাপা প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার সংগঠনটি জাপাসহ ১৪ দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এছাড়া গত শনিবার বগুড়ায় জেলা জাপার কার্যালয় দখল করে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণা কেন্দ্র’র সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার মূল অংশের নেতাদের আশঙ্কা, আগামী ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে দলটির সম্ভবনাময় প্রার্থীদের ওপর হামলা হতে পারে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের বাইরে রাখতে…
খুলনা বিভাগ ঘুরে এসে: আসন্ন সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী নিয়ে ‘নাখোশ’ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এসব আসনে তুলনামূলক ‘কম জনপ্রিয়’ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। এমন পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে বলে আভাস মিলছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা ২টি, যশোরের ৩টি, বাগেরহাটের ২টি, ঝিনাইদহের ২টি এবং খুলনা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও মাগুরায় একটি করে আসনে বিএনপি মনোনীতদের চেয়ে ‘জনপ্রিয় প্রার্থী’ ছিল। কিন্তু নানা কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সরেজমিনে এসব আসন ঘুরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।…
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারগণ একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছেন। ক্ষুব্দ প্রার্থীরা বলছেন, এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন নির্বাচন ‘সাজানো’ হিসাবে পরিচিতি পাবে। নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার মনোনয়নপত্র বাতিলের হার ২৮ শতাংশ, যা সকল বড় দলের অংশ নেওয়া ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি। এবার তিনশ’ আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি। এর মধ্যে রিটার্নিং অফিসারগণ ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থীতা…
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের অভিযোগে তুলে ক্ষোভ দেখানো রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ‘একটি পক্ষকে’ সন্তুষ্ট করতে অনেক রিটার্নিং অফিসার ‘একপেশে’ আচরণ করছেন। তারা বলছেন, ভিত্তিহীন বা ছোটখাটো ভুলে ‘বিশেষ প্রার্থীদের’ মনোনয়নপত্র বাদ দেওয়ার হিড়িক ও প্রার্থীদের সঙ্গে বৈরী আচরণ চলতে থাকলে পাতানো নির্বাচনের তকমা পেতে পারে আসন্ন সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই অভিযোগ তুলেছেন। তারা এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্যকর পদক্ষেপ চান। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ টাইমস অব বাংলাদেশকে…
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই শঙ্কা ছাপিয়ে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বা দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রই নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিজেদের ঐক্য জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী…
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এখন ভোটের মাঠে জোটের রাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশ চলছে। দীর্ঘদিন বড় কোনো দলের জোটসঙ্গী থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে কাঙ্ক্ষিত আসন না পেয়ে ছোট ছোট দল বাঁক বদল করে জোট বদলের কথাও ভাবছে। তাই, এবারের সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৫টি দৃশ্যমান পাঁচটি জোট হলে সামনে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জোট বদল বা নতুন জোট গঠনের ক্ষেত্রে ছোট দলগুলোর নেতারা এখন লাভ-ক্ষতির হিসেবে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ ছাড়া এবারের ভোটে মূলত বিএনপি জোট এবং জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতার নির্বাচনী জোটের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সম্প্রতি নানা জরিপ এবং মাঠের চিত্র বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে বিএনপির…
স্বাধীনতা পাওয়ার পর বাংলাদেশে আগে তিনবার গণভোট হয়েছিল। তবে এবার, ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে গণভোট হচ্ছে, তার প্রেক্ষাপট পুরোপুরি আলাদা এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই এই গণভোট হচ্ছে। ভোটাররা চারটি প্রশ্নের একটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর মাধ্যমে দেবেন। অতীতে, ১৯৭৭ এবং ১৯৮৫ সালে দুটি গণভোট হয়েছিল সরকারের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। আর ১৯৯০ সালে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি-শাসিত শাসন ব্যবস্থা বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী-শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি চালু করা হয়। এই তৃতীয় গণভোটটিকেই ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন। তবে এবারের গণভোট ব্যতিক্রম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা…
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা আর নানা সংশয় কাটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। সেই প্রস্তুতির ভিত্তিতে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার এই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এই তফসিল ঘোষণাকে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মূলধারায় নিয়ে আসতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাছউদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর…
ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাস্তবতায় পুরনো ইস্যুগুলোতে পাল্টাপাল্টি প্রচারণার কারণে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কে আবারও অবনতি হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের সুসম্পর্ক এখন শত্রুতায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা এটিকে ক্ষমতার রাজনীতিতে বাস্তবতা উল্লেখ করে বলছেন, আজ যে বন্ধু, কাল সে শত্রু হতে পারে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল দুটির উচিত ছিল অতীত নিয়ে টানাটানি না করে দেশের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসা। গত কয়েকদিনে বিএনপিকে টার্গেট করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জামায়াত সমমনারা জোরালো প্রচারণা শুরু করে। এরপর ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকাকে বিএনপি সামনে আনার…

