সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মাঠজুড়ে সবুজ আখের সমারোহ। কোথাও কোমরসমান, কোথাও তারও বেশি উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আখের গাছ। কৃষকের চোখে এখন ভালো ফলনের স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নে কিছুটা শঙ্কার ছায়া ফেলেছে মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ।

তারপরও রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের তৎপরতা এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে বাম্পার ফলনে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে আখের ভালো ফলন এবং সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গুড় উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলার সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলায় আখ চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, অধিকাংশ জমিতে আখের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। তবে কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উল্লাপাড়ার আখচাষি সেলিম রেজা বলেন, “এবার চার বিঘা জমিতে আখ করেছি। প্রথম দিকে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো ছিল। পরে কিছু গাছে মিলিবাগ দেখা দেয়। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ করেছি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।”

শাহজাদপুরের কৃষক মোঃ শরিফ সেখ বলেন, “কয়েকটি জমিতে হোয়াইট ফ্লাইয়ের সমস্যা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আখের দাম ভালো থাকলে এবার ভালো লাভ হবে।”

সিরাজগঞ্জে আখ শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বড় একটি অংশ। জেলার উৎপাদিত আখের সিংহভাগই ব্যবহার হয় গুড় তৈরিতে।

আরও পড়ুন

আখ কাটার মৌসুম এলেই বিভিন্ন এলাকায় বসে গুড় তৈরির ভাটা। এসব ভাটাকে ঘিরে কর্মসংস্থান হয় শত শত শ্রমিকের। আখচাষি থেকে শুরু করে শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও গুড় ব্যবসায়ী-অনেক মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই ফসলের ওপর।

তাই আখের ফলন কমে গেলে শুধু কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, এর প্রভাব পড়ে গুড় উৎপাদন ও স্থানীয় বাজারেও।

আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবার প্রথমবারের মতো বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। উন্নত জাতের আখ চাষ, আধুনিক পরিচর্যা এবং রোগ-পোকা দমনে দেওয়া হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কারিগরি সহায়তা।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। সঠিক পরিচর্যা ও অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আখের প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাবে।”

সিরাজগঞ্জে গুড় তৈরির পাশাপাশি চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় ‘রং বিলাস’ জাতের আখের চাষও বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে এ জাতের আখের চাহিদা ভালো থাকায় কৃষকরা এবার লাভজনক দামের আশা করছেন।

কৃষকদের দাবি, রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের আখ চাষ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ হবে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুড় শিল্প।

সব মিলিয়ে রোগ-পোকার আক্রমণ কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও এখনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন না কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে মাঠে আখের ফলন ভালো হবে-এমন প্রত্যাশাই এখন কৃষকের চোখে-মুখে। আর সেই আখ থেকেই শীত মৌসুমে আবারও জমে উঠবে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুড়ের ভাটা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad