ভারতের নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত নয়জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আটকে পড়া অন্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে তার উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা হয়, ‘সত্য নিকেতনে ভবন ধসের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং দুর্গতদের সহায়তা প্রদান করছে।’
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ৭৫ শয্যার একটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ধসে পড়ে। ভবনটির মালিক গুরুগ্রামে থাকেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকাটি অবস্থিত এবং এখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বসবাস করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি একটি ৪০-৫০ বছরের পুরোনো ভবন ছিল। বেজমেন্ট ছাড়াও ভবনটিতে পাঁচটি ওপরের তলা ছিল এবং এটি পিজি হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ঘটনার সময় বেজমেন্টে সংস্কারকাজ চলছিল।’
বিবৃতিতে পুলিশ আরও যোগ করে, ‘দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং ডিডিএমএ’র টিম ফায়ার টেন্ডার ও ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিউ দিল্লি রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার ডিসিপি এবং এডিশনাল ডিসিপি এই উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন।’
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় ভেতরে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিন ছুটি থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী রুমে ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দুর্ঘটনাস্থলে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আকুতি ও কান্নার শব্দ শুনেছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধসে পড়া ভবনটি ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পুরুষদের একটি পিজি হোস্টেল ছিল।
ঘটনার প্রাথমিক চিত্রে দেখা গেছে, ভবনের ধসে পড়া স্থানে বিপুল জনতা জমায়েত হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে শুরু করেন।
The collapse of a building at Satya Niketan, Delhi is distressing. Condolences to those who lost their loved ones. Praying for the speedy recovery of the injured. Authorities are working at the site and assisting those affected in the mishap: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 6, 2026
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন এবং অনেকে মিলে তা সরানোর চেষ্টা করছেন।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১২টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে একটি এক্সকাভেটর মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্ল্যাব ও গার্ডার সরাতে আরও যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় দুর্যোগ মোকাবিলা দলকেও মোতায়েন করা হয়েছে। জনতা সামলাতে পুলিশ ডাকা হয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ভবন ধসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের ভবনটি খালি করা হয়েছে। আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
দিল্লির উপরাজ্যপাল তারানজিত সিং সান্ধু জানান, দ্রুত উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সত্য নিকেতনে ভবন ধসের খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং ডিডিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সহায়তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা প্রথম দুইজনকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতর থেকে কিছু শিক্ষার্থী ফোনও করছেন। ভেতরে আরও অনেকে আটকে আছেন বলে মনে হচ্ছে। উদ্ধার চেষ্টা চলছে। আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি। মুখ্যমন্ত্রী এখানে পুরো একটি টিম পাঠিয়েছেন।’
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এই ঘটনার পেছনে দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন।


