সরকারের ঘোষিত সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তারপরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপার মূল অংশটি। গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এর নেতৃত্বাধীন দলটি আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো নির্বাচন ব্যবস্থা এখনো নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করছে। চলমান অবস্থা নির্বাচন হলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হওয়া নিয়ে শঙ্কা দলটিতে। তাই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে জাপা থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। পতিত আওয়ামী লীগের শেষ চার টার্মের শাসনামলের শেষদিন পর্যন্ত দলটিকে সহায়তাকারী জাপার সাংগঠনিক অবস্থা এখন বেশ নাজুক অবস্থা। জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খোদ রংপুর তথা উত্তরবঙ্গেও জনপ্রিয়তা কমেছে হতাশাব্যাঞ্জক হারে। এ অবস্থায়…
Author: এম. সাইফুল ইসলাম
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র বা সমমনা অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক দল জামায়াত সমমনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি সপ্তাহ থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা’র অভিযোগ এনে জোরেসারে মাঠে নামছে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। ১২-দলীয় জোটের একজন নেতা বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলসহ ১২-দলীয় জোটের ৩টি ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ন্যাশনাল পিপলস পার্টিসহ (এনপিপি) তিনটি দল এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির কয়েকজন নেতা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।’ এ ছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এখন এনসিপির সঙ্গে জোট গড়তে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ তালিকায় জোটটির আরও একটি দল রয়েছে। ভোটের মাঠে দলগুলোর…
আট দলের সমন্বিত প্রার্থী তালিকায় ছয় বিভাগে জামায়াতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বরিশালের এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা। এ ছাড়া অন্য ছয় দলের জনপ্রিয় প্রার্থীদেরকে তালিকায় রেখে আট দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হচ্ছে। সারা দেশে এসব দলের কমপক্ষে ৭ আসনে অমুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থী এবং ৫ আসনে নারী প্রার্থীরা স্থান পাচ্ছেন বলেও দলগুলোর একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সমমনাদের শক্তি কাজে লাগিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জেতার টার্গেটে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে আট দল। কে কতটি আসন পাচ্ছে তার চেয়ে ইসলামী দলগুলোর ভোট যেন ‘এক বাক্সে’ পাঠানো যায় তা…
বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়ার ক্ষোভে আগামী নির্বাচনে অনেকেই ঘোষণা দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার, তাতে বেশ কঠিন অবস্থায় পড়েছে দলটি। দলের নেতারা বলছেন, যেসব আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন, সেখানে দলের ভেতর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি থাকলে ভোট ভাগ হয়ে পড়বে। তাদের ভাষ্যে, এতে করে সুযোগ বাড়বে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের। আর বড় ধরনের বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়বেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এই অবস্থায় ক্ষোভ প্রশমনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন, বিভিন্ন আশ্বাস দিচ্ছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে তাদের রাজি করাচ্ছেন। ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭টি আসনে…
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাদেরকে বাদ দিয়েই নতুন করে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ সাজাচ্ছে এই বড় দুই দল। বিএনপি ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতাদের জনসমর্থন তৈরি হয়েছিল। এজন্য তারা এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। কিন্তু এনসিপি নেতারা তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বেশ কিছু বিতর্কের কারণে এনসিপি এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই এখন কোনো দলই এনসিপিকে আর অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই ছাত্র নেতাদের প্রতি জন-উন্মাদনা থাকলেও, দলটি…
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জোরালো ক্যাম্পেইনে নামছে জামায়াত ও সমমনা ৮ দল। মূলত দলগুলো বিএনপিকে ইঙ্গিত করেই দলগুলো এ প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় আর্শীবাদপুষ্ট কোন দল যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে প্রচারণা চালাবে দলগুলো। দলগুলোর একাধিক শীর্ষ নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবশ্য বিএনপিও ইসলামী দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা দেখে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে কৌশল বা করণীয় ঠিক করছে। ইসলামী দলগুলো এমন প্রচারণা চালাতে পারে সে তথ্য দলটির কাছে আগেই রয়েছে। জানা গেছে, জামায়াতসহ আন্দোলনরত ৮ ইসলামী দল আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ বিভাগে…
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা থেকে বের হতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন মতামতই দিয়েছেন তারা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের কোনো দল বা ব্যক্তি ভারতের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে। এছাড়া রাজনীতিবিদেরা যদি শিক্ষা নিয়ে পথ চলে তাহলে আগামীতে দেশের গণতান্ত্রিক মসৃণ পথ এবং সহনশীল রাজনৈতিক ধারা তৈরি হতে পারে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার রায়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের জন্যে রাজনীতি সামনে কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মত উঠে এসেছে। সবমিলিয়ে এ রায় দেশের সকল মহলের জন্যে একটি বিশেষ…
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হলে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। দলগুলোর ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত আইনগত এই সনদ বিভাজনের রাজনীতি, ক্ষমতাচর্চা এবং ভিন্নমত দমনের আগ্রাসী মনোভাব থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অনেকের প্রত্যাশা, আগামী দিনে যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা সনদ বাস্তবায়ন করে দেশকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় নিয়ে যাবে। আবার অনেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে কোনো দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে তারা আন্তরিক না হলে এটির বাস্তবায়নে শঙ্কা রয়েছে। অর্থ্যাৎ সরকার আগামী সংসদকে সনদ বাস্তবায়নে বাধ্যবাধতা রাখেনি। এই ইস্যুতে অনেকেই ১৯৯০ সালের…
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে বড় শোডাউন দেখাতে চায় জামায়াতসহ সমমনা ৮টি দল। যুগপৎ এই কর্মসূচিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরেসারে কাজ করছে দলগুলো। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে–জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কর্মসূচির ধরন ঠিক করতে দলগুলোতে নানা আলোচনা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও, সড়ক অবরোধ,…
দলের রাজনীতি দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে ‘স্বতন্ত্র ভাবে’ পথ চলতেই শীর্ষ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলর। তাদের অভিমত, জোটে অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলের সমর্থন পেয়ে হয়তো হাতে গোনা কয়েকটি আসন পাওয়া যাবে, তবে তাতে নিজস্বতা হারিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে দলের। বুধবার রাতে বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় এই মতামত উঠে এসেছে। দলের ৫১ সদস্যের নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠকে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ৩২ জনের বেশি উপস্থিত ছিলেন বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। বুধবারের ওই বৈঠকের মতামত নিয়ে শুক্রবারও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন এনসিপির…

