জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে বড় শোডাউন দেখাতে চায় জামায়াতসহ সমমনা ৮টি দল। যুগপৎ এই কর্মসূচিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরেসারে কাজ করছে দলগুলো।
দলগুলোর মধ্যে রয়েছে–জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
কর্মসূচির ধরন ঠিক করতে দলগুলোতে নানা আলোচনা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও, সড়ক অবরোধ, সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার ঘেরাও করার মতো কর্মসূচি। দাবি মানতে ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হতে পারে। আলটিমেটামের পর ফের ঢাকায় মহাসমাবেশ চিন্তা-ভাবনা চলছে।
তবে, কর্মসূচি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনদুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে অনেকের আপত্তি রয়েছে, বরং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া যাবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মহাসমাবেশের ভেন্যু ঠিক করা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে রোববার আমাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে সফলে দলগুলো প্রত্যক দল কাজ করছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দিনক্ষণ ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ তুলে দেওয়া নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে গত ৩ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ সিন্ধান্ত নিতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয় সরকার।
সরকারের ওই ঘোষণার পরও বিএনপি একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। আর জামায়াত ও সমমনারা সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে অনড় থেকে গত ৩ নভেম্বর সংবাদ সস্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করে।
তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল, ৬ নভেম্বর গণমিছিল ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
৬ নভেম্বর ঢাকায় কর্মসূচি পালনের সময় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছিলেন, ‘১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র হবে ভিন্ন রকম। ঢাকা চলো কর্মসূচির মাধ্যমে বড় শোডাউনের ঘোষণা দেন তিনি’।
এরপর থেকে সমমনা এই আট দল কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মহাসমাবেশ সফল করতে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের জেলা বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জকে টার্গেট করেছে দলগুলো। ঢাকার পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকে ব্যাপক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এর বাইরের কোনো জেলা থেকে লোকজন আনার পরিকল্পনা এখন নেই দলগুলোর।
রমনা থানা জামায়াতের আমির আতিকুর রহমান টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেভাবে আমরা কাজ করছি।’
জামায়াত ও সমমনারা ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও এখন তাদের প্রধান দাবি হচ্ছে আগে গণভোট। যুগপৎ কর্মসূচিতে যুক্ত জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, সরকার দাবি না মানলে ১১ নভেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বাইরের লোকবল আনার চিন্তা না থাকলে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতিতে সেদিন ঢাকায় লোকে লোকারণ্য হবে।’
এদিকে, আলোচনা বসতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আহ্বান জানানো হলেও দলটি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে যেকোনো দল বসার আহ্বান জানালে দলটি তাতে সাড়া দেবে।
সরকার আগামী দুই বা তিন দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং গণভোটের ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বিএনপি বা আন্দোলনরত জামায়াত সমমনাদের বিপক্ষে যায় তাহলে ফের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে নাকি আগেই সমঝোতা হবে তা এখন দেখার বিষয়।

