শেরপুরের নকলায় নারীর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ভ্যানচালক আ. মন্নাছকে হত্যার তিন বছর পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার দুপুরে জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এ তথ্য জানান।
পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নকলার পাঠাকাটা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মন্নাছকে ডেকে নিয়ে যান তারই তিন বন্ধু মোস্তাকিন, স্বপন ও শাহীন। পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘমারী বিলের কাছে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। হত্যার পর নিহতের ভ্যানগাড়ির ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মোট ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করে তিন বন্ধু নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
পরবর্তীতে নকলা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও তদন্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্প্রতি ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মন্নাছের স্ত্রী আছমা আক্তার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে এক সন্তানকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।


