বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাদেরকে বাদ দিয়েই নতুন করে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ সাজাচ্ছে এই বড় দুই দল।
বিএনপি ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতাদের জনসমর্থন তৈরি হয়েছিল। এজন্য তারা এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। কিন্তু এনসিপি নেতারা তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বেশ কিছু বিতর্কের কারণে এনসিপি এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই এখন কোনো দলই এনসিপিকে আর অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই ছাত্র নেতাদের প্রতি জন-উন্মাদনা থাকলেও, দলটি তা সাংগঠনিক সমর্থনে রূপান্তর করতে পারেনি। এ কারণে তাদেরকে এখন জোটে আনার জন্য কোনো চাপ নেই।
অবশ্য এনসিপি নেতারা নিজেদের কোণঠাসা হওয়ার কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, এনসিপি ইচ্ছা করেই বিএনপি ও জামায়াতকে এড়িয়ে চলছে। এর বদলে তারা ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশে’র (আপ বাংলাদেশ) সঙ্গে তিন-দলীয় জোট গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এনসিপির যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, এনসিপির ৯৫ ভাগ সিনিয়র নেতা-ই দুই বড় দলের কোনোটিতে যোগ দেওয়ার বিরোধী। কারণ, তারা বিএনপির অতীতের বিতর্ক বা জামায়াতের ঐতিহাসিক বোঝা কাঁধে নিতে চান না। তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরাই তাদের সঙ্গে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দুই ছাত্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এনসিপিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম–এই দুই উপদেষ্টাকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, এনসিপির দর কষাকষির ক্ষমতা কমাতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ টাইমসকে বলেন, জোটের সম্ভাব্যতা নিয়ে এনসিপির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
আরেক বড় দল জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতারা জানান, তারা এনসিপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গড়ার চেষ্টা করছে না। তবে তারা মনে করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এনসিপি শেষ মুহূর্তে উভয় দলের কাছ থেকে আসন ছাড়ের জন্য আলোচনার চেষ্টা করতে পারে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ টাইমসকে বলেন, এনসিপি যোগ দিতে চাইলে তাদের দরজা খোলা আছে। কিন্তু জামায়াত নিজে এ উদ্যোগ নেবে না।
গত বছর অভ্যুত্থানের উদ্দীপনায় গঠিত এনসিপি শুরুর দিকে বড় আশাবাদ জাগালেও, এরপর থেকে চাঁদাবাজি, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতা এবং নেতাদের নানা বিতর্কের শিকার হয়েছে। এই বিতর্কগুলো তরুণ সমর্থকদের মধ্যে প্রথম দিকের আশাবাদকে ম্লান করে দিয়েছে। এনসিপি এখন বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির টাইমসের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা কমে যাওয়ার কথাকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, এনসিপি তিন বা চারটি দল নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। শিগগিরই এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে।


