কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের পূর্বঘোষিত সমাবেশে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে দায়ী করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
তাদের অভিযোগ, আমির হামজাসহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশের শেষ পর্যায়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ।
লিখিত বক্তব্যে তৌকির আহমেদ বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে শান্তিপূর্ণ আমরা সমাবেশ করি। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাসহ আশপাশে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে হামলা চালান।
তিনি বলেন, ‘আমির হামজা চাইলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে বাড়িতে যেতে পারতেন। কিন্তু যে সড়কে আমাদের সমাবেশ চলছিল, সেই সড়ক দিয়েই তিনি কেন গেলেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আমরা মনে করি, সমাবেশে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই পথ ব্যবহার করেছেন।’
হামলার সময় লাঠিসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করে তৌকির আহমেদ বলেন, ‘হামলাকারীরা ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালান। হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে গণঅধিকারের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।’
তার দাবি, আহতদের একজনের পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। আরেকজনের নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কপাল ফেটে গেছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তৌকির আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, আহত নেতাকর্মীদের নিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, নগদ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ কারণে তিনিসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ সময় আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তৌকির আহমেদ। তার মেয়ের গলার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশের জন্য আমির হামজাকে চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
তৌকির আহমেদ দাবি করেন, ঘটনার সময় আমির হামজার মেয়ে গাড়িতে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘একজন মুফতি কীভাবে সাজিয়ে এত সুন্দর মিথ্যা কথা বলতে পারেন—সেটিই আমাদের প্রশ্ন।’
গণঅধিকার পরিষদের খুলনা বিভাগীয় মুখ্য সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘মুফতি আমির হামজা তার মেয়ের চেইন চুরির যে অভিযোগ করেছেন, তার বাসা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তিনি চাইলে সেই ফুটেজ প্রকাশ করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নস্যাৎ করতে যে হামলা ও জুলুম করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হাসান, সদর উপজেলা সভাপতি রয়েল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুফান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


