চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে বৃহস্পতিবার কলেজের সব শ্রেণির পাঠদান এবং অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা যথারীতি চলবে। একইভাবে, ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের নির্বাচনী পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। ২২ ও ২৩ এপ্রিলের স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত। সেখানে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে ওপরের অংশে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকালে প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে দুপুর ১২টার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
সকালের ঘটনার পর বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ লাঠিসোটা এবং ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের কর্মী আশরাফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।


