সন্তানের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে অভিভাবকদের তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তায় শুরু হয়েছে ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ভর্তি মেলা ২০২৬’।
২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। ১০ দিনব্যাপী অনলাইন কার্যক্রমের পাশাপাশি রোববার ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে মেলায় সশরীরে অংশ নেওয়া যাবে।
সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই অফলাইন আয়োজনে অভিভাবকরা অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে প্রাইমারি, ও-লেভেল এবং এ-লেভেল পর্যন্ত ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলো। এটি পরিচালনা করছে সিএইচএস এডুকেশন লিমিটেড এবং ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।
অনলাইনে প্রায় ৪০টি এবং অফলাইনে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রোবেল প্লে স্কুল, ফ্রোবেল একাডেমি, ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, নিউ হরাইজন কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, হুইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ এবং হেইলিবারি ভালুকাসহ ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগী বিভিন্ন স্কুল।
অনলাইন নিবন্ধনের পাশাপাশি অফলাইন ভেন্যুতেও সরাসরি নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। মেলা শেষে র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির কারণে দেশে ব্রিটিশ কারিকুলামভিত্তিক স্কুলগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ‘সঠিক সিদ্ধান্ত, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে আয়োজিত এই মেলাটি অভিভাবকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, ব্রিটিশ কারিকুলামের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল ঢাকার হেড অব এক্সটারনাল অ্যান্ড ইন্টার্নাল অ্যাফেয়ার্স সাবরিনা ইয়াসমিন সিদ্দিক বলেন, ‘ব্রিটিশ কারিকুলামের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলায়ও ভালো ফল করে। মেলায় আমরা ভর্তিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছি।’
ডন সামডানি ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড কনসালটেন্সির একাডেমিক অপারেশনস বিভাগের প্রতিনিধি মৌমিতা জাহান বলেন, ‘আমরা টিনএজারদের সফট স্কিল উন্নয়নের ওপর কাজ করছি, যাতে তারা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ভালো করতে পারে। প্রতি সপ্তাহে দুটি ক্লাস রাখা হয় একটি ফিজিক্যাল, অন্যটি অনলাইন। আমরা বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছি।’
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালের প্রতিনিধি হাসনিন রহমান বলেন, ‘৪৩ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের বৃহৎ ক্যাম্পাস রয়েছে। এখানে মার্শাল আর্টের পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ ও চাইনিজ ভাষা শেখানো হয়। বাংলা বিষয়টি বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে সমান সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।’
প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান বলেন, ‘অনেক স্কুল থাকলেও অভিভাবকেরা সাধারণত অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের নামই জানেন। খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগও সীমিত। আমরা সেই সমস্যার সমাধান করতেই এই আয়োজন করেছি।’
তবে মেলায় আসা অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। সন্তানকে ভর্তি করাতে আসা রবিউল আলম বলেন, ‘অনেক ভালো স্কুল এখানে আসেনি। কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠান থাকলেও বেশিরভাগই নতুন। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসও প্রত্যাশামতো নয়। ভর্তি ফিতে ছাড় দিলেও টিউশন ফি কমানো হচ্ছে না। পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি শেখানো হয় কি না, সেটাও আমরা যাচাই করে দেখছি।’
মেলায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা স্টল রাখা হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন। পাশাপাশি শিশুদের জন্য গেমিং জোন ও বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রয়েছে। বিকালে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজনও করা হয়েছে।


