স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’। পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহে শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে চলছে চলচ্চিত্রটি। তা–ই নিয়ে সমসাময়িক চলচ্চিত্র ও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে কথা বলেছেন টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে।
৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল মেনশন’ বিজয়ী ‘মাস্তুল’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের সম্পর্কের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে নদী ও বন্দরে ভাসমান মানুষের জীবন, বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার সংগ্রাম। এ গল্প বেছে নেওয়ার পেছনের কারণ শোনালেন নুরুজ্জামান।
অন্য একটি ছবির প্রস্তুতি নিয়ে এক বছর গ্রুমিং করানোর পর প্রধান অভিনেতা কাজ ছেড়ে দিলে হতাশায় পড়ে যান নুরুজ্জামান। সে সময়ে একদিন নদীর পাড়ে গিয়ে বসেছিলেন। এ নদীর পাড়েই তো অনেক গল্প। কিন্তু কী গল্প বানাবেন, এমন চিন্তা যখন মাথায়, তখনই ছবিতে ব্যবহৃত তেলবাহী জাহাজটি ঘাটে ভিড়ে।
সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। সাধারণত অপেশাদার শিল্পী নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করলেও এই চরিত্রের প্রয়োজনে বাবুকে কাস্টিং করা হয়। এ ছাড়া ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ সিনেমার শিশুশিল্পীও এখানে কাজ করেছে। তিনি জানান, বাবুকেই একমাত্র কাস্টিংয়ের আগে স্ক্রিপ্ট পড়তে দিয়েছিলেন। তাকে বলেছেন, যদি স্ক্রিপ্ট পড়ে ভালো লাগে, তাহলে জানাতে। না লাগলেও যেন জানায়। বাবু তাকে তিন দিন পরে হ্যাঁ বলেছিলেন।
বাকি শিল্পীদের ক্ষেত্রে অনেক পেশাদার শিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকেই তার পছন্দ হয়নি। নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি যখন একজন শিল্পীর সঙ্গে কথা বলি বা আড্ডা দিই, তখন তার কথা বলার ধরণ, হাঁটা-চলা—সবই খেয়াল করি। তখন মোটামুটি বুঝতে পারি, তাকে দিয়ে আমার কাঙ্ক্ষিত চরিত্রটি করাতে পারব কি না। তার সঙ্গে আমার বনিবনা হবে কি না।’
তিনি নিজেই পরিচালনা, চিত্রনাট্য, সাউন্ড ডিজাইন ও সম্পাদনার কাজ সামলেছেন। তার ভাষ্যে, ‘আমার ভিশনটা অন্য কাউকে বোঝাতে যে সময় লাগবে, সেই সময়ে হয়তো আমি নিজেই কাজটা করতে পারব। তাই এ বিভাগগুলো অন্যদের দিইনি।’
সাদা চোখে চলচ্চিত্র নির্মাণকে এক অনিশ্চিত পেশা মনে করা হলেও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বিষয়টিকে দেখেন ভিন্নভাবে। তিনি এখনো নিজেকে মূলত একজন স্থপতি হিসেবেই পরিচয় দেন। স্থাপত্য তার পেশা হলেও চলচ্চিত্র তার ভালো লাগা ও প্যাশনের জায়গা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ফিল্মমেকিংকে পেশা হিসেবে নিইনি। আমি এখনো আমার স্থাপত্য পেশাতেই আছি। আমি যে ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে চাই, সেগুলো করতে গেলে সারা দুনিয়ার কোথাও এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব না। কারণ, এটা করতে গেলে আমাকে কম্প্রোমাইজ করতে হবে। আমি সেই কম্প্রোমাইজটা করতে চাই না।’
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নিজেই নারায়ণগঞ্জে ৩৫ আসনের একটি মিনিপ্লেক্স ‘সিনেস্কোপ’ পরিচালনা করেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ৫০ আসনের মিনিপ্লেক্সই যথেষ্ট। তার মতে, জেলা শহরগুলোতে এমন অন্তত একটি করে মিনিপ্লেক্স থাকা প্রয়োজন।
বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চেয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছানোকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, ‘সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর যে অবস্থা, তারা ঈদের ছবি ছাড়া অন্য ছবি চালাতে চায় না। কিন্তু আমার এখানে একটি অডিয়েন্স গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যারা আমাদের ঘরানার ছবিগুলোর জন্য বসে থাকে। তাই আমরা ইচ্ছে করেই কম হলে মুক্তি দিয়েছি।’
‘মাস্তুল’ মুক্তির পর তার হাতে আরও দুটি ছবি রয়েছে। ছবিগুলোর নাম এখনো ঠিক করেননি। তবে সেগুলোর শুটিং ইতোমধ্যে শেষ করেছেন।


