মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দুপুরে প্রসবের সময় এই ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা লেবার ওয়ার্ডে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি গ্রামের সামিয়া বেগম (১৯) সকালে প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে কর্তব্যরত মিডওয়াইফরা ‘এপিসিওটমি’ (সাইড কাটা) করার কথা জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বজনরা এতে অসম্মতি জানান। দীর্ঘ সময় পর সামিয়া বেগম মৃত শিশু প্রসব করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তারা লেবার ওয়ার্ডে ঢুকে আসবাব ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত নার্স ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বজনদের চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্বজনদের দাবি, প্রসবের পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসক ও নার্সদের। তাদের গাফিলতি ও সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘প্রসবের সময় এপিসিওটমির বিশেষ প্রয়োজন ছিল। রোগীর স্বজনরা সম্মতি দিতে দেরি করায় ডেলিভারি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়, শেষ পর্যন্ত মৃত নবজাতকের জন্ম হয়। ঘটনার পর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’


