টাঙ্গাইলের সখিপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে সাব্বির মিয়া (২১) নামে এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. ওমরাও খান দীপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাব্বির সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় সে আদালতে উপস্থিত ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সামিয়া দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সামিয়া নিজেকে ছাড়াতে চাইলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করতে ধানখেতের ড্রেনে কাদা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
অভিযুক্ত সাব্বির ছদ্মনামে ইমু আইডির মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। ৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ ওই ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
আদালত রায়ে সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লাশ গুমের চেষ্টা ও আলামত নষ্টের দায়ে তাকে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের পর দণ্ডিত ব্যক্তিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


