অনেকে সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত এবং আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন। আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বরাত দিয়ে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। সনাতন ও সীমিত পদ্ধতিতে উদ্ধারকাজ চলছে।
ওয়েস্ট কোর্দোফান প্রদেশের নুহুদ শহরের আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এই সোনার খনিগুলো।
সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে লিপ্ত এই আধাসামরিক বাহিনী।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে খনিটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
একটি চিকিৎসা সংগঠন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
খনিশ্রমিক আল-আমিন সুলিমান বলেন, বেশ কয়েকটি শ্যাফট থাকা খনিটির ভেতরে এখনো মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খাইরাল-সায়েদ গাবারা ধসটিকে ‘বড় ধরনের’ বলে বর্ণনা করেন। ধসে পড়া মাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশ। তবে এর সিংহভাগ সোনা আহরণ করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে এবং পরবর্তীতে তা দেশের বাইরে পাচার করা হয়। এই দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে দেশটিতে খনি ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর একই ধরনের দুর্ঘটনার মধ্যে ২০২৩ সালের একটি খনি ধসে ১৪ জন এবং ২০২১ সালের আরেক ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হন।


