গাজা উপত্যকার গাজা সিটিতে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ধবার ভোরে ভবনটি ধসে পড়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশুসহ বহু মানুষের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
প্রতিটি তলায় চারটি করে ফ্ল্যাট থাকা বহুতল ভবনটি ধসে পাশের তাঁবুগুলোর ওপর পড়ে, যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। এই দুর্ঘটনা গাজাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আনুমানিক ২ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত হাজারো ফিলিস্তিনির বিপদকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দলের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আবু দান জানান, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও উপকরণের তীব্র সংকট সত্ত্বেও তারা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাজা শহরের সিভিল ডিফেন্স পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান এবং ইউএনডিপির গাজা প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিক নিশ্চিত জানান, উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবে খালি হাতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবের জন্য ইসরায়েলি বিধিনিষেধকে দায়ী করেছেন। তবে ইসরায়েলের দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছানো ঠেকাতে এসব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা জানান, নিরাপদ স্থান, খালি জমি বা অর্থ না থাকায় ঝুঁকি জেনেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ওপর ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার কাছাকাছি এলাকায় তাদের ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। মে মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৬২৭ জন আহত হয়েছেন। এ বছর জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তে দেখা গেছে, ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। আলাদা এক ঘটনায় শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ১৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-জিনতি নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার জানান, গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর চালানো সামরিক অভিযানের ফলে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭৮৯ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।


