প্রায় পাঁচ দশক আগে নির্মিত কুষ্টিয়ার এনএস রোডের আবদুল ওয়াহেদ সুপার মার্কেট। যেই মার্কেট এখন প্রতিদিন এ পথে যাতায়াতকারী শত শত মানুষের জন্য একটি বড় নিরাপত্তাঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুইতলা এই ভবন এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির বারান্দা একদিকে হেলে পড়েছে, বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এমনকি মানুষের চলাচলের সময় ভবনটি কেঁপে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় দোকানদার ও কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটে বর্তমানে প্রায় ৫০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রায় ১৫০ জন মানুষ কাজ করেন।
প্রতিদিনই ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের আনাগোনায় মার্কেটটি সরগরম থাকে। তবে ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়ার পর আগের তুলনায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেট ভবনের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতার চিহ্ন বেশ স্পষ্ট। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। দুইতলা ভবনের বারান্দার একটি অংশ একদিকে হেলে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভেতরে মানুষ চলাচল করলেও ভবনটি প্রায়ই কেঁপে ওঠে। ঝুঁকিপূর্ণ জানার পরও, জীবিকার অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় তারা বাধ্য হয়ে প্রতিদিন দোকান খুলছেন। তবে, দোকানে বসেও তারা নিরাপদ বোধ করছেন না।
শরীফ নামে মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন দোকান খুলি, কিন্তু সবসময় একটা ভয় কাজ করে। ভবনের যে অবস্থা, কখন কী ঘটে যায়, কেউ বলতে পারে না। ব্যবসা না করলে আমার পরিবার চলবে না, আবার দোকানে বসেও নিরাপদ লাগে না। ভবনের অবস্থা দেখে ক্রেতারাও আগের মতো আসতে চান না।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজন বলেন, ‘বাইরে থেকেই বোঝা যায়, মার্কেট ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একদিকে হেলে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এত মানুষের চলাচলের জায়গায় এমন একটি ভবন থাকা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।’
তবে দীর্ঘদিন ধরে কম ভাড়া পাওয়ায় নতুন করে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
স্কুল সূত্র জানায়, ১৯৭৬-৭৭ সালে নির্ধারিত ভাড়ার হার অনুযায়ী অধিকাংশ দোকান থেকে এখনো মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিরতিতে ভাড়া সামান্য বাড়ানো হলেও কোনো দোকানের মাসিক ভাড়া ৫০০ টাকার বেশি নয়। ফলে, এই সামান্য আয় দিয়ে স্কুলের পক্ষে এত বড় একটি মার্কেট নতুন করে নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবানা ইয়াসমিন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, মার্কেটটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দোকানদাররা মূলত জায়গার জন্য ভাড়া দেন এবং দীর্ঘদিনের নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই আয় দিয়ে পুরো মার্কেটটি নতুন করে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি বর্তমান জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সভাপতি তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘আমি ভবনটি দেখেছি। ভবনটি অনেক পুরোনো। এর বর্তমান অবস্থা একজন প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। প্রকৌশলী যদি ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, মাথার ওপরের ছাদটি আর কতদিন টিকে থাকবে, সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই এখনো প্রতিদিন সকালে দোকান খুলছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে কুষ্টিয়ার মানুষকে সেবা দিয়ে আসা এই মার্কেট এখন যেন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই এই মার্কেটের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর একমাত্র প্রত্যাশা–দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


