নীলফামারীতে নানা আয়োজনে ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এ উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন। সভাপতিত্ব করেন টাইমসের উপদেষ্টা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইলিয়াস খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ আহম্মেদ তান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টাইমসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. নাহিদ হোসেন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তহমিন হক ববী, সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন মোহাম্মদ শিথুনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সুধীজন, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
ইলিয়াস খান বলেন, ‘যে পত্রিকা বাজারে ১০ কপিও বিক্রি হয় না, সেই পত্রিকার মালিকপক্ষ এক লাখ কপি প্রচারসংখ্যা দাবি করে। এমনকি সংসদেও কোনো কোনো পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়।’

তিনি বলেন, দেশে অনেক সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত প্রচার সংখ্যার সঙ্গে কাগজে-কলমে দেখানো সংখ্যার বড় পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো পত্রিকার বাজারে তেমন প্রচার না থাকলেও কাগজে-কলমে বিপুল প্রচারসংখ্যা দেখানো হয়। এতে পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও গণমাধ্যমের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়।
ইলিয়াস খান বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসা বাঁচাতে মিডিয়া তৈরি করেন। তাদের কাছে গণমাধ্যম কখনো কখনো ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এতে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।’
সাংবাদিকতার নামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন ইলিয়াস খান। তিনি বলেন, দেশে অনেক ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে অপসাংবাদিকতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। এতে পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের প্রাপ্য সম্মান ক্ষুণ্ন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে সংবাদ প্রকাশের সময় তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের অসংগতি, অনিয়ম ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে। জনস্বার্থে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্যনির্ভরতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
বক্তারা টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পত্রিকাটির সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা কেক কেটে প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেন।


