সরকারি কর্মীদের নতুন যে বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, সেটি অনুযায়ী বেতন গ্রেড ভেদে আপাতত বেতন বাড়ছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ এর প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে পবেন ২০ হাজার টাকা আর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
নিম্নস্তরে ১৪২ শতাংশ এবং উচ্চস্তরে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি অনুমোদন করে যে সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হয়, তখনই বলা হয়, বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে চার ধাপে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নবম ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন আপাতত বাড়ছে ৪০ শতাংশ। এটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হারে বেতন পাবেন তারা। এই সময়য়ে ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়বে ৫০ শতাংশ।
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়াও পেয়ে যাবেন কর্মীরা।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তার উপরের গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন আরও ৩০ শতাংশ বেশি পাবেন, অর্থাৎ গত জুনের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি পাবেন তারা। এই হারে বেতন হবে আরও ছয় মাস।
এই সময়ে ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা গত জুনের মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ বেশি পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতন বৃদ্ধি পুরোপুরি কার্যকর হবে।
বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে। এখন যারা মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পান তাদের পেনশন বড়ছে ১০০ শতাংশ। এর অর্থ হলো যারা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান, তারা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা।
এখন মাসে যারা ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পান, তাদের পেনশন বড়ছে ৭৫ শতাংশ, যারা ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৬৫ শতাংশ, আবার যারা মাসে ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৬০ শতাংশ। যারা ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পান তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ ১৫ হাজার পেনশনভোগীও নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তানের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুইজন প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়া হবে।
আগে কর্মকর্তারা মোবাইল ভাতা পেলেও নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের মোবাইল ভাতা দেওয়া হতো না। এবার সরকারি সব কর্মচরীর জন্য মোবাইল ভাতা চালু করা হয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, ৫ম গ্রেড থেকে তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, গ্রেড-৬ থেকে গ্রেড-২০ এর কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।
মূল গেজেটের পাশাপাশি বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক এসআরও জারি করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার গত বছরের ২৭ জুলাই অবসরপ্রাপ্ত অর্থসচিব জাকির হোসেনকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।
এ বছরের ২১ জানুয়ারি জাকির হোসেন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২১ এপ্রিল জাকির হেসেন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির পর্যালোচনার পর ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেয়।


