ফেনীতে চুরি-ছিনতাই বাড়ছে, আস্থা কমেছে পুলিশের প্রতি

ফেনীতে চুরি-ছিনতাই বাড়ছে, আস্থা কমেছে পুলিশের প্রতি
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ফেনীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে মানুষের মধ্যে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে জেলায় বিভিন্ন অপরাধ ও ঘটনায় ১ হাজার ১৯১টি মামলা ও ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ করেও দ্রুত ও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পুলিশের কাছে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন কিছু ভুক্তভোগী। আর এই পরিস্থিতি অপরাধীদের উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ছাগলনাইয়া ও দাগনভূঞায় পৃথক ঘটনায় ডাকাতি ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ছাগলনাইয়া পৌরসভার পশ্চিম ছাগলনাইয়া বনানীপাড়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জানালার গ্রিল কেটে এক ওমানপ্রবাসীর বাসায় ঢুকে তাকে কুপিয়ে আহত ও তার স্ত্রীকে মারধর করে প্রায় সাড়ে তিন ভরি সোনা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আহত আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে।

অন্যদিকে দাগনভূঞার উত্তর বারাহী গোবিন্দে জনশূন্য একটি বাড়ির দরজা ভেঙে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে রাতে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।

পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনারই তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

গত ১৯ আগস্ট সকালে ফেনী শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির হাজী আজিজ আহমদ সড়কের রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তার স্ত্রী শাহানা আক্তারকে জিম্মি করে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১৪ ভরি সোনা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে জিম্মি করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার ১৮ দিন পরও লুট হওয়া টাকা ও সোনা উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

শুধু ডাকাতি নয়, শহর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও চুরি, ছিনতাই, মাদক ও সহিংস অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে বলছেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করলেও দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রতিকার না পাওয়ায় পুলিশের ওপর তাদের আস্থা কমছে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখার মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মাদকসংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ৩০০টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ১৪০টি, চুরি ১১৪, সড়ক দুর্ঘটনা ৫৫, খুন ১৮, চোরাচালান ১৮, দস্যুতা ১৬, অস্ত্র ৫ এবং ডাকাতির ঘটনা ৩টি। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ ও ঘটনায় নথিভুক্ত হয়েছে আরও ৫২২টি।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদরে, ৫৫৬টি। এরপর ছাগলনাইয়ায় ১৯৩, দাগনভূঞায় ১৬৩, সোনাগাজীতে ১৫৫, ফুলগাজীতে ৭৮ এবং পরশুরামে ৪৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, পুলিশের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি এবং দীর্ঘদিন স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

জেলা জজ আদালত, ফেনীর আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

তবে পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফেনীর সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad