অসুস্থ মা ও শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন জুবাইদা রহমান

অসুস্থ মা ও শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন জুবাইদা রহমান
অসুস্থ মা এবং তার শিশু পুত্র। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

খুলনার কয়রায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন স্থানীয় বামিয়া শ্রীফলতলার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভিডিও নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমানের। তাৎক্ষণিকভাবে গত শনিবার রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর মাধ্যমে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে তাদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মা ও শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে তারা কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, ‘বিষয়টি শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। তাৎক্ষণিক আমি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করি। রোববার সকালে মা ও শিশুটিকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জেডআরএফের সদস্য এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজাউল করিম রাজিবের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। মা ও শিশুটির দ্রুত সুস্থতার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।’ তারা এরই মধ্যে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

হারুন সানা বলেন, ‘তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলায়। অভাব-অনটনের সংসারে চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশু সন্তান হোসাইনের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারিনি। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাতে পারছি।’

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজাউল করিম রাজিব বলেন, ‘ওই নারী পুষ্টিহীনতার কারণে দুর্বল এবং তার যৌনাঙ্গের বাইরে একটা ফোঁড়াও হয়েছিল। ফোঁড়াটা এখন ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আর তার শারীরিক পুষ্টির জন্য মাল্টিভিটামিন স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বাচ্চার চিকেন পক্স হয়ে শরীর ও মুখে সাদা স্পট পড়ে গেছে। যা একটা সময় পর ঠিক হয়ে যাবে। তার জন্য হাসপাতাল থেকেই বিশেষ পুষ্টির দুধ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনই স্বাভাবিক আছে।’

অসহায় এ পরিবারের আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় এ পরিবারটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন চিকিৎসার মাধ্যমে দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে-এটাই তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad