রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় গাড়ির চালকের আসনে থাকা সেই কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গুলশানের বাসা থেকে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে আইনের সংস্পর্শে এনে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসানকে একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার চাপা দিলে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে ওই কিশোর এবং অন্য পাশ থেকে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি নেমে আসেন। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা কিশোরটিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন।
তবে ওই রাতে মব থেকে রক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেছেন। তবে মামলায় ওই কিশোরের নাম না দিয়ে পলাতক চালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বাসিন্দা নিহত মেহেদীর পরিবারের সঙ্গে মামলার বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।


