ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
Advertisement
Advertisement

প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা এক মামলায় ফুডপান্ডার পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।

মামলার আসামিরা হলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজা (৪০), কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী (৪৬), পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান (৪০), হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক (৪৫) এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক (৪২)।

মামলার বাদী শিহাব মাহমুদ বশির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ জুলাই প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী ও ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির ঢাকার আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেন।

ওই সময় মামলাগুলো আমলে নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গুলশান থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

তদন্ত শেষে এক মামলায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান এবং আরেক মামলায় একই থানার এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বুধবার আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী আইপিএলই ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে হাউজহোল্ড ও কিচেন অ্যাকসেসরিজ, মোবাইল অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে সরবরাহ করতেন।

২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রয়াদেশের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়।

এর বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি প্রায় ১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত বছরের ২৬ জুন বাদী তার প্রতিনিধি নিয়ে আসামিদের অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় আসামিরা তাকে ভয়ভীতি দেখানোসহ মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরবরাহ করা পণ্য নষ্ট হয়েছে দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করে পাওনা অর্থ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পাশাপাশি চুক্তির শর্ত ভেঙে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ডেলিভারি হিরো (ডিএইচ) স্টোরসের বক্তব্য

ডেলিভারি হিরো স্টোরস জানিয়েছে, দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং আইন পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পরে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কর্মীরা কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়।

সিএমএম আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইতোমধ্যে তারা হাইকোর্ট থেকে কর্মীদের জামিন নিয়েছে।

ডেলিভারি হিরো স্টোরস জানায়, চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাওনা অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব এড়াতে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হয়রানি করতে মো. শিহাব মাহমুদ বশির চারটি ফৌজদারি মামলা করেছেন। মূলত তিনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন।

একই থানার পুলিশ মামলাগুলোর তদন্ত করে দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি; বরং অভিযোগকারীর কাছেই ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, সাধারণ বাণিজ্যিক বিরোধকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া দেশের বিদেশি বিনিয়োগ পরিবেশ এবং এফডিআইয়ের জন্য নিরুৎসাহব্যঞ্জক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট এবং এ বিষয়ে কর্মীদের যে ফৌজদারি কোনো দায় নেই, তা প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছে ডিএইচ স্টোরস।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad