জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার সাভারে সাঁজোয়া পুলিশযান থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে ১৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এক মাস সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করে।
এ মামলার ১৩ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজামান এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমর, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল গণির ছেলে মেহেদী হাসান তুষার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীবের ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান এবং শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল। তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাকি ছয় আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া এবং ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ওরফে জিএস মিজান।
ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ২৬ জুলাই আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। সেদিন পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালান। দুপুর দেড়টার দিকে ইয়ামিনকে ধরে টেনে একটি পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে তার বুকের বাম পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুলিতে তার বুকের পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এরপর ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রাখা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ইয়ামিনকে নিয়ে সাঁজোয়া যানটি এপাশ থেকে ওপাশে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রায় মৃত অবস্থায় ইয়ামিনকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একই সময় সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে ইয়ামিনের পায়ে আবার গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়।
তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে তার পায়ে গুলি না করে তাকে রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন। সে সময়ও গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে নিশ্বাস নিতে দেখা যাচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রসিকিউশন এই ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করছে।


