রাজধানীর গুলশানে কেএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তারকৃত ৬৪ আসামির মধ্যে ১৫ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রুহুল আমিন ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৫ আসামির প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, কথিত মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতাদের শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও ইন্ধন বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী নিরব খান (২২), ঠাকুরগাঁও শহর আওয়ামী লীগ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগ সদস্য মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), ভাটারা থানা যুবলীগ সদস্য মো. সাহেদ (৩৯), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী শান্ত শেখ (২৮), ঢাকা মহানগর উত্তর ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান (৫০), চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. বিল্লাল গাজী (৩৫), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল সিরাজী (৩২), ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের কর্মী মো. আরিফুর রহমান দিপু (২৭), বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), জাতীয় শ্রমিক লীগের ভাটারা থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (৭৫)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ নম্বর সড়কের কেএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার ২৪ আসামিকে আদালতের আদেশে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন করে গ্রেপ্তার ১৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলায় পলাতক অন্য আসামিদের অবস্থান, ঘটনার পরিকল্পনা ও ভূমিকা এবং অর্থের জোগানসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাত দিনের আবেদনের পরিবর্তে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।


