রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ছয়টি এক্সেস কন্ট্রোল গেট প্রায় ৯ বছর ধরে অচল পড়ে আছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সহজ করতে ২০১৭ সালে গেটগুলো স্থাপন করা হলেও চালুর দুই মাসের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে যায়।
তৎকালীন উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট আইডি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ছয়টি এক্সেস কন্ট্রোল গেট কেনা হয়। তিনটি প্রশাসনিক ভবন-১-এর প্রধান ফটকের সামনে ও তিনটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্থাপন করা হয়।
স্মার্ট আইডি কার্ড ব্যবহার করে এসব গেটের মাধ্যমে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ছিল। তবে চালুর দুই মাস পরই গেটগুলো অচল হয়ে পড়ে। এরপর এগুলো সচল বা রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের মানুষের করের টাকার নির্মম অপচয় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল পরিসরে এ ধরনের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহপরান লিখন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধু অর্থের অপচয় নয়, প্রশাসনের জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতারও প্রশ্ন।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলিম বলেন, ‘কীভাবে গেটগুলো সচল ও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি।’
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গেটগুলো শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই এসব গেট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে গ্রন্থাগার ব্যবহারে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) সভাপতি মোহাম্মদ আজহার বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। এই ধরনের ব্যক্তিরা এখানে ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারেন না। বিশেষ করে যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তারা এখানে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারছেন না।’
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও আমরা বিবেচনায় রাখছি। তাদের জন্য লাইব্রেরির গেটগুলো কীভাবে আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য ও প্রবেশগম্য করা যায়, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেব।’


