চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন।
রোববার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন- কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর মাইঙ্গাপাড়া এলাকার আব্দুল মাবুদ ওরফে কানা মামুদের ছেলে আবু তাহের (৫০) এবং ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুর (৪০)।
আবু তাহের পেশায় মুদিদোকানি ছিলেন। আব্দুস শুক্কুর ছিলেন অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দোহাজারী থেকে বাজার করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন আবু তাহের। অটোরিকশাটি পূর্ব কাটগড় রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে অসাবধানতাবশত রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে ট্রেনের নিচে চাপা পড়েন আবু তাহের। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় অটোরিকশাচালক আব্দুস শুক্কুর গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কান্তি দে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত নই।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রেললাইন অবরোধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা জানান, গেটম্যান না থাকায় প্রায় সাতকানিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। গত দুইমাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজকে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
অবরোধের সময় প্রবাল এক্সপ্রেস আটকে রাখা হয়। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম অবরোধস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল বিওসি এলাকায় একটি গেটম্যান। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কথা বলিয়ে দিয়েছি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের মধ্যে একটা গেট ও গেটম্যান দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে।’
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চলে গেলেও কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে যায়। বিকাল ৪টার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।


