চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিরাগত দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়, ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে নারী হেনস্থাসহ নানা অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
শনিবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি অভিযোগপত্র প্রক্টর বরাবর জমা দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শিমুল ফকির এবং একই শিক্ষাবর্ষের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ফাহিম আহমেদ অপি।
জানা গেছে, ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অপরিচিত পর্যটকদের সুযোগ বুঝে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারধর, চুরি ও নারী হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, হাটহাজারীর শিক্ষার্থী মো. আসহাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনা এলাকায় ঘুরতে গেলে ‘শিমুল’ নামের এক ব্যক্তি ও তার দুই সহযোগী তাকে ভয়ভীতি দেখান। পরে তারা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে নগদ ১৫০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ২০ টাকা নেন।
অন্যদিকে, চবি ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পূর্ব পাশের ব্রিজ এলাকায় শিমুল ফকির ও ফাহিম আহমেদ অপি তাকে ডেকে মারধর করেন। এ সময় তার চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। পরে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তার পকেট থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ছাড়া পৃথক একটি অভিযোগপত্রে শিমুল ফকিরের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ, ছিনতাই ও হেনস্থার অভিযোগ করেছে বাগেরহাট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাব্বি তাওহিদ বলেন, ‘ভুক্তভোগীর কাছে থাকা ছবি দেখে আমরা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম (সুজন) বলেন, ‘এক পর্যটক বিকালে চবি ঝরনায় ঘুরতে গেলে সেখানে ফোনে ছবি তুলে ভিডিও ধারণ করে ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তারা নগদ ১৫০ ও বিকাশে ১ হাজার ২০ টাকা নেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা তা স্বীকার করে। এরপর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করলে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।’


