কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাস মামলা করেছেন।
মামলায় কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন, ছেলে শোভন হোসেন, বডিগার্ড রুহুল আমিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুমারখালী থানায় মামলাটি করেন তিনি। উল্লাস বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তার ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ করেন সাংবাদিক উল্লাস। যা বাংলা টিভিতে প্রচার হয়।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চলতি দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উল্লাসকেও সেখানে ডাকেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার প্রায় ৫০ মিনিট পর সাংবাদিক উল্লাস তার ক্যামেরাপার্সন সাকিব আল হাসান, এনটিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়ন হোসেনসহ কয়েকজন সাংবাদিক নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করতে যান। এ সময় একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। রামদা, বেকি, কাঠের বাটাম ও লাঠি নিয়ে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় উল্লাসের মাথা ও চোখের নিচে জখম হয় এবং শরীর রক্তাক্ত হয়। এ সময় ক্যামেরা ভাঙচুরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় এবং ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে আহত সাংবাদিক কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
সাংবাদিক উল্লাসের অভিযোগ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় বাকবিতণ্ডার জেরে হামলার এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এজাহারভুক্ত আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


