আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে আবারও হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দরকার ৩৪ লাখ টিকা, কিন্তু আছে ৫২ লাখ টিকা। এই ৫২ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী আমরা ম্যাসিভ ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত হামের টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। পরবর্তীতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনে দেখা যায় ৪৩ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। পরে মপআপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ও ৬ মাস বয়স পূর্ণ করা নতুন ১০ লাখ শিশু হিসাব করে এবার ৩৪ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইনটি ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচিতে শুধু নির্ধারিত কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামের ভেতরে গিয়েও শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনা হবে। এতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন।
হামের চিকিৎসা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে নিউমোনিয়া বা জটিলতা দেখা দিলে প্রটোকল অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ, সিপ্যাপ ও ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সিংহভাগই টিকা না নেওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধের মজুত রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে জেলা ও ঢাকার বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হামে মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


