প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে মেথামফেটামিনের ব্যবহারও বেড়েছে।
ফিজির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা মন্ত্রী ড. রাতু আতোনিও লালাবালাভু বলেন, পরিস্থিতি এখন মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি মোকাবিলায় প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার বর্তমান ব্যবস্থা আর যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিজিতে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি। এই সিদ্ধান্ত মহামারির ভয়াবহতা তুলে ধরে। দেশের এখন জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের হিসাবে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। ২০২৫ সালে নতুন করে ২ হাজার ৬০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত।
গত ৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
১০ লাখের কম জনসংখ্যার ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ইউএনএইডস জানায়, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে নতুন সংক্রমণ ১২ গুণ বেড়েছে।
মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবে ফিজির অবস্থান ও মেথামফেটামিনের ব্যবহার বৃদ্ধি এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। অনিরাপদভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ ও পরিষ্কার সুচের সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
স্বাস্থ্য বিষয়ে কম সচেতনতা, সামাজিক কলঙ্ক, পর্যাপ্ত পরীক্ষা না হওয়া ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগও সংকট বাড়িয়েছে।
ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, ফিজিতে সংক্রমণের ধরন জানা এইচআইভি রোগীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। ৪২ শতাংশের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে।
জাতিসংঘ জানায়, ২০২৫ সালে ফিজিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতেন। অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, পরিস্থিতি ‘বিশ্বের জন্য একটি কঠোর স্মরণবার্তা যে এইডস এখনও শেষ হয়নি’।
তিনি বলেন, ‘এইচআইভির মহামারি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও কমিউনিটি ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। ফিজি পরিস্থিতির জরুরি গুরুত্ব বুঝেছে এবং পদক্ষেপ বাড়াচ্ছে।’
ইউএনএইডস জানায়, ফিজিতে সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে তোলা হবে। এইচআইভি প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


