গ্রিনল্যান্ডে ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ দাবি ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ডে ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ দাবি ট্রাম্পের
'গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়' প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করছেন গ্রিনল্যান্ডের নাগরিকরা, জানুয়ারি ২০২৬ এর ছবি। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ দেওয়ার বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে, যাতে গ্রিনল্যান্ডে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ ক্ষমতা’ পাবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও অবিলম্বে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে তিন পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে কোপেনহেগেন ও নুক—উভয় পক্ষের সংসদীয় অনুমোদন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অঞ্চলটির স্বার্থকে স্বীকৃতি দেবে।

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহের মধ্যেই এই সমঝোতার ঘোষণা এলো। এর আগে তিনি ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড বারবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দেশগুলোর গ্রিনল্যান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হবে এবং চীন ও রাশিয়ার সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পথ বন্ধ থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সমঝোতাকে ‘ঐতিহাসিক’বলে উল্লেখ করেছেন। তার বলেন, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে থাকবে এবং সেখানে কোনো প্রতিপক্ষের উপস্থিতির সুযোগ থাকবে না।

উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তির পর সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে ওঠে।

গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে অঞ্চলটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে ওয়াশিংটন। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের হুমকি ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এখন নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই বিরোধের অবসানের পথ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad