আটক ৩৭ জন খনিশ্রমিকের মৃত্যুর পর নাইজেরিয়ার এক বেসামরিক নিরাপত্তা কমান্ডারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নাইজার রাজ্যে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্তের’ নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।
এএফপি জানিয়েছে, অবৈধ খননকাজে জড়িত সন্দেহে ওই শ্রমিকদের আটক করা হয়। এক গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, যেখানে তাদের রাখা হয়েছিল সেখানে অতিরিক্ত ভিড় ছিল এবং বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এতেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
বেলজিয়ামের চেয়েও দ্বিগুণ বড় নাইজার রাজ্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সোনার খোঁজে হাজারো ক্ষুদ্র খনিশ্রমিক সেখানে কাজ করেন।
তদন্ত চলার সময় পর্যন্ত নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোরের (এনএসসিডিসি) রাজ্য কমান্ডার সুবেরু সিয়াকা আনিভিয়েকে বরখাস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদ সুরক্ষার কাজটি করে এনএসসিডিসি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। পুরো বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা হবে। আর যার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি ঘটেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই কমান্ড্যান্ট বরখাস্ত থাকবেন।’
এএফপির হাতে আসা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিননায় এই মৃত্যুর ঘটনার পর বিক্ষোভে নামেন খনিশ্রমিকদের সংগঠন ও তাদের সমর্থকেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা জায়গায় কয়েক ডজন তরুণের মরদেহ পড়ে আছে। তাদের পরনে ছিল শুধুই হাফপ্যান্ট। নিহতদের বেশিরভাগকেই কিশোর বলে মনে হয়েছে।
ঘটনাটির আলাদা তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশও। কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, নাইজার রাজ্যের অবৈধ খনি থেকে সোনা তোলাকে কেন্দ্র করে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। খনিতে নামার সুযোগ তৈরি করে দিতে এবং কাজ চালাতে খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে কর ও সংগৃহীত আকরিকের একটি অংশ দাবি করে চক্রগুলো।
২০২৪ সালের সুইসএইডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অবৈধ সোনার বড় অংশই পাচার হয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখান থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সোনাগুলো বৈধ করে ফেলা হয়।


