বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যাতায়াত আরও ভালো করতে এবং মূল স্থলবন্দর দিয়ে সহজে পণ্য পরিবহনের জন্য বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
এই পরিকল্পনার অধীনে রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এই অঞ্চলের মালামাল পরিবহন অনেক সহজ হবে।
পেট্রাপোল (বাংলাদেশের বেনাপোল), চ্যাংরাবান্ধা (বুড়িমারি), হিলি, ফুলবাড়ী (বাংলাবান্ধা) ও ঘোজাডাঙার (ভোমরা) মতো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বড় স্থলবন্দরগুলোতে যাওয়ার রাস্তা উন্নত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্থলবন্দরগুলোর সাথে যোগাযোগ ভালো হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাকে জাতীয় সড়কের মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। রাজ্য পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গডকড়ির সাথে দেখা করে এই প্রস্তাব তুলে দেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। ওই বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র স্তরে কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার অজয় পোদ্দার জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যোগাযোগব্যবস্থা ও পরিবহন অবকাঠামো মজবুত করতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, আমদানি ও রপ্তানির পণ্য যাতে দ্রুত পৌঁছাতে পারে এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে যাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে না হয়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান রাস্তা চওড়া ও নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি, এই বছর রাজ্যে থাকা বিদ্যমান জাতীয় সড়কগুলোর দেখভাল ও উন্নয়নের কাজও খতিয়ে দেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রস্তাবিত তালিকায় বেশ কিছু সীমান্তবর্তী রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে মালদার গৌড় থেকে মহদীপুর (বাংলাদেশের সোনা মসজিদ স্থলবন্দর) যাওয়ার রাস্তা এবং চাকদহ ও বনগাঁ হয়ে পেট্রাপোল সীমান্তগামী সড়কটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বাড়াতে এই পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশ ছাড়া নেপাল ও ভুটানের সীমান্তও রয়েছে। তাই এই রাস্তাগুলো জাতীয় সড়কের আওতায় এলে সীমান্ত এলাকাগুলোর যোগাযোগ যেমন ভালো হবে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও অনেক বাড়বে।
শিল্প ও ব্যবসার জন্য দরকারি আরও কয়েকটি রাস্তাকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে পুরুলিয়া-বারাকর রাস্তা (যা রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বাড়াবে), দুর্গাপুর-বাঁকুড়া রাস্তা, আসানসোলের জুবিলি মোড়-জামতাড়া রাস্তা এবং বীরভূম ও মুর্শিদাবাদকে সংযোগকারী মোহাম্মদ বাজার-সাইঁথিয়া-কান্দি রাস্তা।
এই রাস্তাগুলো তৈরি হয়ে গেলে রাজ্য, প্রতিবেশী দেশ এবং বড় বড় শিল্পকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ ও ঝামেলাহীন হয়ে উঠবে।


