ফিলিপাইনের একটি স্কুলে গুলিতে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ ফিলিপাইনের সাউথ কোটাবাতোর বাঙ্গা শহরে এ হামলা হয়। জুনের পর দেশটিতে এ নিয়ে তৃতীয় প্রাণঘাতী স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটল।
একটি দুর্যোগ সংস্থার কর্মী জানান, নিহতদের দুইজন শিক্ষার্থী। আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটজন আহতের মধ্যে চারজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। ভুক্তভোগীরা সবাই ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী।
সাউথ কোটাবাতো প্রদেশের গভর্নর রেনালদো তামায়ো বলেন, হামলার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিজের গায়ে গুলি চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শহরের মেয়র আলবার্ট পালেনসিয়া পরে জানান, হামলাকারী মারা গেছেন বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়েছে।
তবে কতজন হামলাকারী জড়িত ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, দুইজন হামলাকারী ছিল।
তামায়ো বলেন, ‘আপাতত আমরা আমাদের সহনাগরিকদের জানানোর চেষ্টা করছি যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা কখনো ভাবিনি এমনটা ঘটবে।’
পালেনসিয়া বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি আমার বন্ধুদের পাশে বসে বলেছিল, তারা যেন বাড়ি চলে যায়, কারণ দুপুরের খাবারের পর আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। বন্ধুরা হেসেছিল, কারণ বন্দুকধারীকে সবার জানা রসিক ব্যক্তি হিসেবে চেনা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুপুরের খাবারের পর সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মহত্যা করার আগে সে ১০ জন শিক্ষার্থীকে আঘাত করে।’
দেশটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি তৃতীয় স্কুলে গুলির ঘটনা।
আগস্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রের দক্ষিণে অবস্থিত ঝামবোয়াঙ্গায় এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে আরেক শিক্ষার্থীকে হত্যার দৃশ্য লাইভস্ট্রিম করে এবং এরপর নিজের জীবন শেষ করে।
জুনে মধ্য ফিলিপাইনের তাকলোবানে একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর গুলি চালানোর পর তিন শিক্ষার্থী নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়।
স্কুল নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি দেশজুড়ে শুটার ড্রিল পরিচালিত হয়েছে। তবে তামায়ো অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের নাগালের বাইরে বন্দুক রাখতে হবে, কারণ নিরাপত্তাকর্মীরা যথেষ্ট নন।
মেয়র বলেন, ‘আমাদের অস্ত্র সংরক্ষণে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা আশা করতে পারি না যে অল্প কিছু নিরাপত্তাকর্মী হাজারো শিক্ষার্থীকে নজরদারি করবে।’
দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা সংক্রান্ত নিয়মকানুনও কঠোর করেছে।
বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার জন্য পূর্ব-ইতিহাস যাচাই এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনো প্রচুর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রচলন রয়ে গেছে।


