প্রায় চার বছর পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে ফিরেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঘোড়াই ঘাট থেকে হরিপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরের পর পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর তীরে জড়ো হন। নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও বাড়তে থাকে উত্তেজনা। করতালি, উল্লাস ও স্লোগানে মাঝিদের উৎসাহ দেন তারা।
নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর তীরে বসেছে গ্রামীণ মেলা। সেখানে দেশীয় খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ মেলায় ভিড় করেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুস। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। প্রধান বক্তা ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মুক্তমঞ্চের সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ইমরান হোসেন ইউনুস বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নৌকাবাইচ আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।’
তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিবছর আরও বড় পরিসরে নৌকাবাইচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামীণ খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।’
সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবছর নৌকাবাইচের আয়োজনের পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা অন্যান্য গ্রামীণ খেলাধুলারও আয়োজন করা প্রয়োজন। এসব আয়োজন লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি যুবসমাজকে সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখবে।’
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে প্রায় সাতটি নৌকা অংশ নেয়। আগামী রোববার ফাইনাল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনের আয়োজন শেষ হবে।


