কক্সবাজারের রামুতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া মো. শাহীন (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দলের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বাঁকখালী নদী থেকে শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শাহীন রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার প্রবাসী নুরুল আমিনের ছেলে। সে স্থানীয় মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে বুধবার বিকালে সিকদার পাড়া নদীপাড়ের বাদামতলী মাঠে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে খেলা শেষে শাহীনসহ তিন বন্ধু বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় তারা কলাগাছ নিয়ে সাঁতার কাটছিল। একপর্যায়ে শাহীন পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রামু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে কক্সবাজারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল না থাকায় নদীর গভীরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রামু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবদুল কাদের চৌধুরি বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে শুরু করেন। কক্সবাজারে ডুবুরি দল না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করে।’
ফায়ার সার্ভিস অফিসার আবদুল কাদের চৌধুরি বলেন, ‘শাহীনের মরদেহ উদ্ধারের পর রামু থানা পুলিশের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
শাহীনের বড় ভাই মো. ফয়সাল বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে গোসল করতে গিয়ে আমার ভাই পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় তাকে খুঁজছিলেন।’
স্থানীয়রা জানান, বাঁকখালী নদীর ওই অংশে পানির গভীরতা ও স্রোত থাকায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর ডুবুরি দলের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করে।


