ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের সন্যাসীরচর এলাকায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার’ উদ্বোধনের চার বছর পরও চালু করা সম্ভব হয়নি। লোকবল নিয়োগ না হওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ভবনটি অরক্ষিত পড়ে থাকায় এর বিদ্যুৎ ও পানির লাইনসহ নানা সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার লক্ষ্যে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে ট্রমা সেন্টারটি পরিচালনার জন্য আজও কোনো পদ সৃজন করা হয়নি বা একজন কর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিক সার্জন, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ ৩৪টি পদ সৃজনের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে ভবনটির মূল ফটক অরক্ষিত থাকায় চোরচক্র বেসিন, কল, দরজা-জানালা এবং বৈদ্যুতিক ও পানির লাইন খুলে নিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে এবং ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে।
এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সঠিক সময়ে বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যেতে হয়। অবিলম্বে ট্রমা সেন্টারটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।
মাদারীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল জানান, পদ সৃজন না হওয়ায় লোকবল সংকট রয়েছে এবং পুনরায় প্রয়োজনীয় চাহিদা পাঠিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় ভবনের অনেক সরঞ্জাম চুরি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো ভবন সংস্কার ছাড়া এটি ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয় বলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে।


