আদালতে খালাস পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে। তার খালাসের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে প্রায় আট বছর বিলম্বের ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিট করেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
রিটে ইব্রাহিম শেখের খালাসের আদেশ প্রেরণ ও কার্যকর করতে আট বছর ধরে ব্যর্থতাকে বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে তার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা অথবা আদালত নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক অর্থ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
খালাসের পরও কারাগারে
রিটের বিবরণ অনুযায়ী, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ পেশায় ছিলেন নৈশপ্রহরী। ২০০৩ সালে রাতের পাহারা শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি।
পরে দায়রা আদালত তাকে একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। অন্য একটি মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের মামলা থেকে তাকে খালাস দেয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অন্য মামলাতেও তাকে খালাস দেওয়া হয়। কিন্তু খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে প্রায় আট বছর লেগে যায়। রিটে বলা হয়েছে, তদবিরের অভাবে আদেশটি যথাসময়ে কারাগারে পৌঁছায়নি।
দীর্ঘ ২২ বছর কারাবন্দী থাকার মধ্যে ইব্রাহিমের মা মারা যান এবং স্ত্রী তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ কারাবাসে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চরম দারিদ্র্যের কারণে বর্তমানে চিকিৎসা করাতেও পারছেন না বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পর রিট
ইব্রাহিম শেখের দুরবস্থার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট তার জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে জনস্বার্থে রিট করে।
আবেদনে ইব্রাহিমের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হাসান শহীদ কামরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, ইব্রাহিম আলী শেখের খালাসের আদেশ আট বছর ধরে প্রেরণ ও কার্যকর করতে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায় এবং তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি রিটে তুলে ধরা হয়েছে।
হাইকোর্টের রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, খালাসের আদেশ প্রেরণ ও কার্যকর করতে ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইব্রাহিম শেখকে পাঁচ কোটি টাকা বা উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।


