কারাগারে তারেক সাঈদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কারাগারে তারেক সাঈদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের ওপর মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার তারেক সাঈদের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেল। তিনি টাইমসকে জানান, আগামী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় তারেক সাঈদের ওপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

হামলার পর কারাগারের ভেতরে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারেক সাঈদকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১০ আগস্ট তারেক সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় বিএনপি কর্মী বেল্লাল হোসেনকে গুম করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামের বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এসব ঘটনার সময় তারেক সাঈদ র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক (সিও) ছিলেন। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।

সাত খুনে মৃত্যুদণ্ড

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও পরে হত্যা করা হয়। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক ছিলেন তারেক সাঈদ মোহাম্মদ।

তদন্ত ও বিচারিক নথিতে ওই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে তারেক সাঈদের নির্দেশ ও সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত এ মামলায় তারেক সাঈদসহ একাধিক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে হাইকোর্টেও তারেক সাঈদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad