সাইবার সিকিউরিটি আইন নিপীড়নমূলক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার সিকিউরিটি আইন নিপীড়নমূলক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

সাইবার সিকিউরিটি আইন কোনো অবস্থাতেই নিপীড়নমূলক হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধনী কোনো অবস্থাতেই যাতে নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং এর কোনো অপপ্রয়োগ না হয়, সে জন্য সব অংশীজন ও বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমকে টার্গেট করে এই আইন করা হচ্ছে না এবং কোনো সাংবাদিক যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় সংশোধনী খসড়া আলোচনার পর সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ করে নাগরিক, মানবাধিকার সংস্থা, শিক্ষার্থী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ সভা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সভায় গৃহীত মূল সিদ্ধান্ত ও রূপরেখাসমূহ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। ছবি: টাইমস

এ ছাড়া মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মতামত পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়, আইটি মন্ত্রণালয়, সম্পাদক পরিষদ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পিআইও এ কার্যক্রমের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবেন। আইনি নিষ্পত্তিতে কেউ যেন অনির্দিষ্টকাল ঝুলে না থাকে, সে লক্ষ্যে আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় ও ১৫ দিন পর প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে খসড়াটি ক্যাবিনেটে পাঠানোর আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পেলে এটি সংসদে পেশ করা হবে। সংসদে বিরোধী দল ও সরকারি দলের বিস্তারিত আলোচনা এবং সংসদের বাইরে সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি পরিমার্জন করা হবে, কোনো তাড়াহুড়ো করে পাশ করা হবে না।

তিনি বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অপরাধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো, যুবসমাজকে রক্ষা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য টিকিয়ে রাখাই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য । দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই চূড়ান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad