বিএনপি আসার পর আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি হয়েছে: নাহিদ

বিএনপি আসার পর আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি হয়েছে: নাহিদ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং সরকার নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসহ বাংলাদেশের জনগণ অনেক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’ তার দাবি, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে মিরপুরের রাডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। রাডা সেন্টারে রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চললেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর করবে এবং প্রশাসন সেখানে কিছুই করতে পারবে না। এটি হতে পারে না।’

রাডা সেন্টারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক সংরক্ষিত এমপির নাম এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা, তাদের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।’ তার অভিযোগ, ‘এটা সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন নানাভাবে সেটা কারা হামলা করেছে বা ভিক্টিমের দায় কী, এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে।’

হবিগঞ্জে সিএনজি বা অটোস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং সাভারে মাদ্রাসা দখলের চেষ্টার ঘটনাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এক ধরনের নৈরাজ্য। দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়ী করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে এটা সম্ভব নয়।”

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভাইবার নম্বর বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০০ শতাংশ নাম্বার বৃদ্ধি করা হচ্ছে’। বিভিন্ন এমপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রিটেন পাশ করলেই হবে, ভাইবার সময় এডমিট কার্ডটা আমার কাছে নিয়ে আসলেই হবে, চাকরি হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন

সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এখানে একজনকেও বাদ দেওয়া যাবে না।’ যোগ্য প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি একজন চাকরি প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে এই চাকরি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব, আমরা তার জন্য কথা বলব, আমরা তার জন্য আন্দোলনে যাব, প্রয়োজনে মাঠে থাকব।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, জ্বালানি সংকট, সীমান্ত হত্যা, ভারত থেকে পুশইন, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয়, রোহিঙ্গা সংকট, তিস্তা প্রকল্প ও দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সেখানে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি যে জনগণের প্রত্যাশা সেখানে উঠে আসেনি, জনগণের আশাকাঙ্ক্ষা উঠে আসেনি।’

সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংশোধনের নামে সংস্কারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রয়োজন দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংশোধন একটা বিল এনে আপনি সংবিধানের মৌলিক সংস্কারগুলো করতে পারবেন না। সেটার জন্য আপনার লাগবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ।’

জুলাই সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক অভিমত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নাটক বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।’

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনি উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে সমালোচনা করলেই সেখানে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের সমালোচনা করে সেখানে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং নির্যাতন করা হচ্ছে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিএমপির এক কর্মকর্তার নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘উনারা কি পুলিশ প্রশাসনের কাজ করবেন, নাকি জাতীয়তাবাদী উর্দি পড়বেন।’ পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় পদোন্নতি ও পদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব রয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা হতে হবে।’ তিনি জানান, এনসিপি এককভাবে এ নির্বাচনে অংশ নেবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও আসিফ মাহমুদের অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশগ্রহণ করছি।’ তার ভাষায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এনসিপি ‘সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে এবং দখলদারের বিরুদ্ধে’ লড়াই হিসেবে দেখছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির প্রতি আস্থা ছিল না দেখেই ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছিল।’ তার দাবি, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিরোধী দল হিসেবে অতীত ভূমিকার কারণে জনগণের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad