বর্তমান প্রশাসন সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘আপনারা বলে দেন সংবিধানের ২৯ নং ধারায় ছাত্রদল যুবদল বিএনপির এমপি মন্ত্রীদের সুপারিশ ছাড়া আর কারও চাকরি হবে না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসুর উদ্যোগে ৪৯ তম বিসিএসের গেজেট থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
পিএসসিতে দলীয়করণ ও ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ, সরকারি চাকরির নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া ও দলীয়করণের সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাদের পায়ের নিচে আর মাটি নেই বলেই তারা এমন অস্বাভাবিক আচারণ করছেন।’
পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকটসহ সারাদেশে নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা ও অযোগ্যতাকে দায়ী করেন তিনি । জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বরদাশত করা হবে না হুশিয়ারি দেন, শিক্ষার্থীদের চাকরির অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে ।

বিক্ষোভ মিছিলে ডাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরীক্ষায় ও বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে গেজেটভুক্ত না করা এক ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্য।
চাকরির ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা অন্য কিছুকে প্রাধান্য না দিয়ে কেবল মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, মেধার ওপর দলবাজি চাপানোর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশে পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি হয়তো ক্ষমতার মোহে এসে বিগত সময় ভুলে গিয়েছেন।ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের কারণে আপনি যখন দেশে ফিরতে পারেননি, জুলাইয়ে তরুণ ছাত্র সমাজ আপনাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে। এই জুলাইয়ের ছাত্রসমাজদের আপনি বঞ্চিত করতে পারেন না।’
গেজেটে বাদ পড়া এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ভিন্নমতের রাজনীতির সঙ্গে আমার বাবা জড়িত ছিলেন কিন্তু আমি জড়িত নই। তারেক রহমান ভিন্নধর্মী মতাদর্শকে শ্রদ্ধা করেন, আমি দাবি করি ১২ তারিখের মধ্যেই আমাদের পুনর্বিবেচনা করা হোক।’
এর আগে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলা ভবন প্রদক্ষিন ডাকসু ভবনের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।


