রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এই সময়ে এসে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে এক বছর আগে ‘সাথী’ পদ থেকে বহিষ্কার করার কথা কেন সামনে আসল ইসলামী ছাত্রশিবির, সেটি এখন ক্যাম্পাসে মুখরোচক আলোচনার বিষয়।
আগামী ২৬ অক্টোবর শেষ হতে যাচ্ছে রাসকুর নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় বাকি থাকতে ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের প্যাডে আম্মারকে বহিষ্কার সংক্রান্ত তিনটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
যেখানে নৈতিক স্খলন, ইবাদতে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আম্মারের সাথী পদ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং পরের বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচনের সময় আম্মার ছিলেন আলোচিত। তিনি নির্বাচনে অংশ নেন আধিপত্যবিরোধী ঐক্য নামে একটি প্যানেলে, যেটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ছিলেন।
এই প্যানেলের সহসভাপতি বা ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক।
শুরু থেকেই আম্মারের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তবে তিনি এটি স্বীকার করেননি, ছাত্রশিবিরও তার বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি।
গত এক বছরে আম্মারের নানা কর্মকাণ্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে গোটা দেশেই আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেছে। চাঁদাবাজি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের পিটুনিসহ নানা ঘটনায় তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, এমন এক সময়ে শিবিরের এই চিঠিটি সামনে এল।
রাসকুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে আম্মারের সাথী পদ বাতিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা শিবিরের দায় এড়ানোর কৌশল বলে মনে করছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।
নেতারা বলছেন, শিবির সংগঠনের পরিচয়ে যেসব কর্মকাণ্ড করতে পারেনি, সেসব কাজ আম্মারকে দিয়ে করানো হয়েছে। এখন যেন এসব কাজের দায় নিতে না হয়, সেজন্যই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
রাজশাজী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ টাইমসকে বলেন, ‘বর্তমান রাকসু কমিটির মেয়াদ শেষের দিকে। আম্মারের কর্মকাণ্ডের কারণে পরবর্তী নির্বাচনে তার ম্যান্ডেট পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে বহিষ্কারের নাটক সাজিয়ে নতুন কোনো বি টিমকে সামনে আনা হবে।’
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আম্মারকে শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে তিনি সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তার মানে এই নয় যে আম্মার শিবির করে না। এটি তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ‘আম্মারকে বহিষ্কারের বিষয়টি লোক দেখানো। আমরা বারবারই বলে এসেছি, আম্মার শিবিরেরই অংশ। অফিসিয়ালি শিবির যে কাজগুলো করতে পারে না, আম্মার সেগুলোই করেন। তাকে বহিষ্কারের ঘটনাটিও নেহাতই শিবিরের আরেকটি অপকৌশল।’
শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অবশ্য বলেছেন, ‘আমাদের সংগঠনে কাউকে বহিষ্কার করা হলে সেটি পাবলিক করা হয় না। এটি আমাদের নীতিবিরুদ্ধ। আমাদের সাবেক এক ভাই ভুলবশত এটি করেছে। আমরা ইতিমধ্যেই তার কাছে এর জবাব চেয়েছি।’
আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শিবিরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির তার কোনো কাজ সমর্থন করেনি। তিনি রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ায় রাকসুতে আমাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে শুধু সমন্বয় করেছে, সমর্থনের কোনো বিষয় নেই।’
আম্মার অবশ্য তার অতীতের শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেই যাচ্ছেন। শিবিরের বহিষ্কারাদেশের চিঠি ফাঁস হওয়ার পর তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আমি ছাত্র সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে শিবির কোনো প্রমাণ দেয়নি দাবি করে অভিযোগগুলো প্রমাণের জন্য শিবিরকে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।


