জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করা ব্যক্তিদের পদ ও মন্ত্রণালয় দিয়ে ‘কিনে নেওয়া’ হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের মূল্যায়ন করবে ও প্রশ্ন করবে।
রোববার জাতীয় সংসদে হাসনাত বলেন, ‘বিএনপির যারা সংস্কারের জন্য দীর্ঘ যুগের পর যুগ বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তাদেরকেও একটা চেয়ার দিয়ে, একটা পদ দিয়ে, একটা মন্ত্রণালয় দিয়ে এখন হচ্ছে কিনে নেওয়া হয়েছে। তো মানুষ দিন শেষে আসলে তাদের মূল্যায়ন, তাদের বিচার, তাদেরকে প্রশ্ন করবে।’
গণভোটের ফলাফল নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে দুইটা ফলাফল ছিল। তারা একটা ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং একটা ফলাফল মেনে নেননি। অর্থাৎ তাদের অবস্থানটা হচ্ছে একটা কাদা-পানিতে অবস্থান। তাদের অর্ধেক কাদায় আছে, অর্ধেক পানিতে আছে।’
হাসনাত বলেন, ‘গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ, উনিই বলেছিলেন। তো আমরা জানি না যে আসলে গণভোটের তুলনায় আলুর দাম বেশি হওয়া যিনি গুরুত্বপূর্ণ বলেছিলেন, মৌলিক সংস্কারগুলাকে আসলে পাশ কাটিয়ে দেওয়ার জন্য প্রথম গণভোটটা উনি মানতে চাননি।’
সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে মানুষের আস্থা হারিয়েছে এবং সরকার যে মানুষের কথা রাখেন না, গণভোটের রায় যে সরকার বাস্তবায়ন করেন না, এই সরকার আবার একটা গণভোট আয়োজন করবে, মানুষের টাকা খরচ করে?’
তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আগে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। ‘ফার্স্ট থিং ফার্স্ট। জনগণ এখন যে রায় দিয়েছে, এটা আগে হোক, বাস্তবায়ন হোক। এরপর উনারা যদি অন্য কিছু করেন, তাইলে আমরা বিশ্বাস করব, আস্থা রাখব যে পরবর্তীতে উনারা গুড ইনটেনশনে, গুড ফেইতে কিছু করবেন।’
নতুন কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি মূলত ২০০৬ সালে যে ধরনের একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপি গঠন করেছিল। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা নতুন একটা ফর্মুলা ইন্ট্রোডিউস করার জন্য উনারা প্রতারণামূলক একটা নতুন একটা ব্যবস্থায় যাবেন।’
নিজেদের প্রস্তাবের বিষয়ে হাসনাত বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে অন্তর্বর্তীকালীন কেয়ারটেকার গভমেন্টের ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের যারা সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটিতে ছিলেন, তৎকালীন সময়ে আমাদের এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দিয়েছি।’


