চসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বগাকে পায়নি পুলিশ

চসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বগাকে পায়নি পুলিশ
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পুলিশের খাতায় থাকা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তারে সিটি কর্পোরেশন ভবনে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযানে তাকে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয় পুলিশ। নগর ভবনে ওয়াকিল হোসেন অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এসময় অভিযানের সংবাদ কাভার করতে গেলে মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে মেয়রকে বলেতে শোনা যায়, ‘আমরা ত কাউকে খবর দেয়নি, কেন এসেছেন আপনারা। কি জন্য আসছেন? সিটি কর্পোরেশনে ১০০ জন মানুষ আসবে।’

পুলিশের দাবি, অভিযান চালিয়ে নগর ভবনের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি করা হলেও ওয়াকিল হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ওই সময় নগর ভবনে আদৌ ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন বগা নগরের খুলশী ও আশপাশের এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, মাদক, পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে।

ওয়াকিল হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের জুনে সরকারি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে গত মাসে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় বগাকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে খুলশী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও সড়ক অবরোধের অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও ওয়াকিল হোসেন প্রধান আসামি।

আরও পড়ুন

খুলশী এলাকায় সাম্প্রতিক এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও ওয়াকিল হোসেনের নাম সামনে এসেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে আট কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘাত থেকে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত হৃদয় ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আটজন ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য। ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংটি ওয়াকিল হোসেন বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি পরিচালনা করেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

অন্যদিকে স্থানীয় বিজয়, কামরান ও শান্তর নেতৃত্বে ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাং পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে মঙ্গলবার খুলশীতে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফাতেমা আক্তার প্রকাশ বালি (৪৫), বাবলু প্রকাশ বাবু (৪৭) ও মো. আবু তাহের প্রকাশ কালু (৩০)।

জালালাবাদ সি বিচ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুলশী থানার অপারেশনস অফিসার গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াকিল হোসেন বগার সহযোগী।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, `ওয়াকিল হোসেন বগা ছিল এমন খবরে আমরা অভিযান চালাই, কিন্তু তাকে আমরা পাইনি। সে এখন কোথায় আছে সেটাও জানি না।’

পুলিশের দাবি, ওয়াকিল হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad