চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ গ্রহণ করানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেইট থেকে শুরু হয়ে শাহজালাল, শাহ আমানত হলের সামনে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় ঘুরে আবার জিরো পয়েন্টে এসে পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘নাম দিয়েছে ইসলামি, করে শুধু ভণ্ডামি,’ ‘বাহ শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। বরং নিজেদের মাদার পার্টিকে সার্ভ করেছেন। এই চাকসুর মাধ্যমে আমরা ধর্ষণের সাফাইকারী পেয়েছি। চাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা ছিল। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই চাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় অপরাধ করেছে। তাদের অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, চাকসুর মেয়াদ আছে আর মাত্র ১৭ দিন। কেন এবং কোন কারণে ধর্ষণের পক্ষে থাকা একজন সদস্যকে শপথ করানো হয়েছে, তা শিক্ষার্থীরা জানতে চায়।
তিনি চাকসু ভিপির বিয়ে ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ভিপি ১০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তিন তারকা হোটেলে কীভাবে বিয়ে করেন, এই টাকার উৎস কী তা আমরা জানতে চাই। তারা ২৫ লাখ টাকা দিয়ে নবীনবরণ করেছে। এই টাকার উৎস সম্পর্কেও আমরা জানতে চাই। প্রতিটি হল দখল করে চবিকে ক্যান্টনমেন্ট বানানোর চেষ্টা করা হলে ছাত্রদল সব সময় প্রতিবাদ করবে।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ধর্ষণ করা জামায়াত-শিবিরের ঐতিহ্য। তারা একাত্তরে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘যারা আজ আকাশ দাশকে শপথের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারা চাকসুর ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবেন। তারা এ ক্ষেত্রে আইনের কথা বলেন। তারা যদি আইন মেনে কাজ করতেন, তাহলে ন্যূনতম একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আমরা দেখতে পেতাম।’
তিনি আরও বলেন, চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় খুবই সন্নিকটে। তারা যে প্রক্রিয়ায় চাকসু নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা চাকসুকে ঘৃণাভরে দেখবে।
চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৭ দিন আগে মঙ্গলবার নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ গ্রহণ করানো হয়।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর চাকসুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের একদিন আগে ধর্ষণ নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তার শপথ আটকে যায়। পরে ওই মন্তব্যের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
আরও পড়ুন: তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদ করায় চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ


