সরকার যোগ্য লোককে চুয়েটের ভিসি বানিয়েছে, দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের

সরকার যোগ্য লোককে চুয়েটের ভিসি বানিয়েছে, দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নেতারা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অথচ দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বজায় রাখতে শিক্ষকদের একটি অংশ ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে কৃত্রিম অচল অবস্থা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নেতারা।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রিয়াসাত হাসান সুমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ইলিয়াস হোসেন, সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান এবং সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসিম হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক নেতারা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চুয়েটেরই প্রাক্তন ছাত্র, যিনি স্নাতক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তিনি পূর্ববর্তী সময়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপউপাচার্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে চুয়েটের অন্যতম জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। স্বৈরাচারী শাসনামলেও চাকরির ঝুঁকি নিয়ে অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এমন একজন নীতিবান শিক্ষককে সরকার সম্পূর্ণ সংবিধিবদ্ধ নিয়ম মেনেই দায়িত্ব দিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিগত উপাচার্যের আমলের সমালোচনা করে তারা বলেন, তৎকালীন অপসারিত ভিসি ছিলেন জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ৭৩তম অবস্থানে থাকা তৃতীয় গ্রেডের একজন জুনিয়র শিক্ষক। ডেকোরাম ভেঙে ৭২ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে টপকে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তখন কোনো আন্দোলন হয়নি। তিনি বিদেশে স্কলারশিপ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন।

সাবেক ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে অধ্যাপক শরীফুল আলম দায়িত্ব নিলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতের অডিট ও অনিয়ম ধরা পড়ার ভয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকেরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সুযোগে কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্রগোষ্ঠীর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংকট নিরসনে চার দফা আহ্বান জানানো হয়: ১. শিক্ষার্থীদের প্রতি: কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনায় না পড়ে অবিলম্বে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে যাওয়া; শিক্ষকদের প্রতি: আন্দোলন ত্যাগ করে নতুন উপাচার্যের সাথে গঠনমূলক সংলাপে বসা; সরকারের প্রতি: ধৈর্য ও আইনি বিচক্ষণতার সাথে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা; নতুন উপাচার্যের প্রতি: দ্রুত সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

সাবেক নেতারা বার্তা দিয়ে বলেন, সরকার কাকে উপাচার্য বানাবে তা সম্পূর্ণ সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার। দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে নতুন ভিসির অপসারণ দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad