একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সত্যিকারের সাফল্য শুধু কতজন তরুণ চাকরি পেল, তা দিয়ে মাপা যায় না। বরং শিক্ষা তাদের কতটা দক্ষ, চিন্তাশীল ও আত্মনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছে, সেটিই আসল মাপকাঠি। বিশেষ করে ব্যবসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি আরও জরুরি। আমরা কি শিক্ষার্থীদের কেবল বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতির কাঠামোর মধ্যে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করছি, নাকি তাদের সেই কাঠামোকে বুঝতে, প্রশ্ন করতে এবং প্রয়োজন হলে নতুন সমাধান দিয়ে বদলে দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করছি?
এমন এক সময়ে আমরা বসবাস করছি, যখন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার জগৎ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের যুগে শুধু জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। সেই জ্ঞানকে বাস্তব কাজে, নতুন ধারণায় এবং মূল্য সৃষ্টিতে রূপ দেওয়ার সক্ষমতাই শিক্ষার বড় পরীক্ষা। তাই বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার সামনে আজ একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু দক্ষ চাকরি প্রার্থী তৈরি করব? নাকি এমন উদ্যোগী ও সৃজনশীল মানুষও গড়ে তুলব, যারা সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকবে না, বরং নিজেরাই নতুন সুযোগ তৈরি করবে। অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে?
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ব্যবসায় শিক্ষার গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। তারা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, বাজার বিভাজন, কার্যকরী মূলধন, নেতৃত্ব, বিনিয়োগের মুনাফা কিংবা ব্যবসায়িক কৌশলের মতো ধারণাগুলো খুব সহজেই ব্যাখ্যা করতে পারে। তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারে, আকর্ষণীয় প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জটিল কেস স্টাডিও বিশ্লেষণ করতে পারে। তাদের চলনে-বলনে-কথা বার্তায় একটা আধুনিকতার ছাপও আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে বাস্তব পৃথিবীতে যখন কোন বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, যার উত্তর কোনো পাঠ্যবইয়ের শেষ পাতায় লেখা নেই, তখন কি ঘটে?
বাস্তব ব্যবসার জগতে তথ্য প্রায়ই অসম্পূর্ণ, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং সিদ্ধান্তের ফল আগে থেকে জানা যায় না। একজন সম্ভাব্য গ্রাহক সত্যিই পণ্যটি কিনবেন কি না, ব্যাংক ঋণ দেবে কি না, বাজার ছয় মাস পর একই থাকবে কি না, প্রতিযোগী কি করবে, কিংবা একটি লাভজনক ব্যবসা নৈতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য কি না, এসব প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর তাদের জনা নেই। অথচ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো,বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তর খুঁজতে যতটা শেখায়, সঠিক প্রশ্ন করতে ততটা শেখায় না।
এই জায়গাতেই ব্যবসা শিক্ষার সঙ্গে উদ্যোক্তা শিক্ষার গভীর সংযোগ প্রয়োজন। তবে উদ্যোক্তা শিক্ষা বলতে শুধু স্টার্ট-আপ তৈরি শেখানো বোঝালে আমরা এর মূল তাৎপর্য হারিয়ে ফেলব। এর উদ্দেশ্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ব্যবসার মালিক বানানো নয়। বরং উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা, যারা সমস্যা দেখতে পারে, সুযোগ চিনতে পারে, সীমিত সম্পদের মধ্যে সমাধান তৈরি করতে পারে এবং নিজের ধারণাকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে। অন্য কথায়, আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উদ্যোক্তা বানানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যে উদ্যোগী হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের মতো দেশে এই প্রশ্নটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তরুণদের কাছে উচ্চশিক্ষা এখনো প্রধানত একটি ভালো চাকরিতে প্রবেশের পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিবারও সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় বিনিয়োগ করে একটি নিরাপদ কর্মজীবনের প্রত্যাশায়। এই প্রত্যাশা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অর্থনীতি যদি পর্যাপ্ত মান সম্পন্ন চাকরি সৃষ্টি করতে না পারে, আর বিশ্ববিদ্যালয় যদি শিক্ষার্থীকে শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য প্রস্তুত করে, তাহলে একটি মৌলিক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।
উচ্চশিক্ষার কাজ তাই শুধু চাকরি প্রার্থী তৈরি করা হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের এমন সক্ষমতাও দিতে হবে, যার মাধ্যমে তারা নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধি সৃষ্টি করতে পারে। এর সঙ্গে আর্থিক সাক্ষরতার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। বহু বছরের শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক তরুণ সঞ্চয়, ঋণ, সুদ, কর, নগদ প্রবাহ, ঝুঁকি কিংবা বিনিয়োগের মতো বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। একজন ব্যবসায় শিক্ষার্থী পরীক্ষায় লাভের সংজ্ঞা লিখতে পারে, অথচ একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান কেন নগদ অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সেটি বাস্তবে উপলব্ধি নাও করতে পারে। আবার ঋণকে ব্যবসার অর্থায়নের উৎস হিসেবে জানলেও ঋণ নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি দায় এবং ভুল অনুমানের মূল্য কতটা কঠিন হতে পারে, তা হয়তো যথেষ্টভাবে শেখে না।
তবে এর সমাধান বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কীভাবে দ্রুত ধনী হওয়া যায়’ শেখানোর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা নয়। ব্যবসা শিক্ষার উদ্দেশ্য তার চেয়ে অনেক গভীর। আর্থিক জ্ঞানের সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তা, বিচারবোধ, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক দায়িত্ব যুক্ত করতে হবে। অর্থ উপার্জনের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মানবিক ও সামাজিক পরিণতি বোঝার ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্যোক্তা সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ধারণা হলো, ‘দ্রুত ব্যর্থ হও’, ‘ব্যর্থতাকে উদযাপন করো’। কথাগুলো শুনতে আকর্ষণীয় এবং এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটি ইতিবাচক দর্শনও রয়েছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে ব্যর্থতা সব সময় রোমান্টিক নয়। একটি ভুল সিদ্ধান্তে একজন উদ্যোক্তার নিজের সঞ্চয় শেষ হতে পারে, পরিবার ঋণগ্রস্ত হতে পারে, কর্মীরা চাকরি হারাতে পারেন, সরবরাহকারীরা পাওনা হারাতে পারেন এবং গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কাজেই শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাকে উদযাপন করতে শেখানোর চেয়ে ব্যর্থতার সীমা বুঝতে শেখানো বেশি জরুরি। একটি ভালো উদ্যোক্তা শিক্ষা শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করতে শেখাবে: আমি কতটুকু ঝুঁকি নিচ্ছি? আমার ধারণা ভুল হলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? ছোট পরিসরে এটি পরীক্ষা করার সুযোগ আছে কি? সিদ্ধান্তটি কি পরে পরিবর্তন করা সম্ভব? অন্য মানুষের অর্থ, জীবিকা, নিরাপত্তা বা বিশ্বাস কি এর সঙ্গে জড়িত? ব্যর্থতা থেকে শেখা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু নিজের ছোট পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া এবং অন্য মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে ব্যর্থ হওয়ার মধ্যে বড় নৈতিক পার্থক্য রয়েছে।
এ কারণেই ব্যবসা শিক্ষার কেন্দ্রে নৈতিকতার প্রশ্নটি আরও শক্তভাবে আনা প্রয়োজন। কারণ লাভজনক ব্যবসা এবং ভালো ব্যবসা সব সময় একই জিনিস নয়। একটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করেও লাভ করতে পারে। কোনো আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমন পণ্য বিক্রি করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক কিন্তু গ্রাহককে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর আর্থিক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। কোনো পণ্য ব্যাপকভাবে বিক্রি হতে পারে, অথচ পরিবেশ বা সমাজের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে। তাই ব্যবসা শিক্ষায় ‘এটি কি করা সম্ভব?’ কিংবা ‘এটি কি লাভজনক?’—এই দুটি প্রশ্নের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী একটি প্রশ্ন শেখানো দরকার: ‘এটি কি করা উচিত?’ এই একটি প্রশ্ন ব্যবসা শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ বাণিজ্যিক মূল্য এবং সামাজিক মূল্য সব সময় এক নয়। কোনো উদ্যোগ বিনিয়োগকারীর জন্য মুনাফা সৃষ্টি করলেই তা সমাজের জন্য মূল্য সৃষ্টি করছে—এমন ধারণা বিপজ্জনক। একজন ভবিষ্যৎ ব্যবসায়ী বা ব্যবস্থাপককে তাই গ্রাহক, কর্মী, সমাজ ও পরিবেশের ওপর তার সিদ্ধান্তের প্রভাব বিবেচনা করতে শিখতে হবে। কখনো কখনো নৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য স্বল্পমেয়াদী মুনাফা ত্যাগ করার প্রয়োজনও হতে পারে।
এই শিক্ষার প্রয়োজন শুধু তাদের জন্য নয়, যারা ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করবে। বাস্তবে অধিকাংশ ব্যবসায় শিক্ষার গ্র্যাজুয়েট হয়তো কখনো উদ্যোক্তা হবে না। তারা ব্যাংক, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক ব্যবসা, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করবে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানও এমন কর্মী চায় না, যারা শুধু নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে। তাদের প্রয়োজন এমন মানুষ, যারা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে, নতুন সম্ভাবনা দেখতে পারে, সীমিত সম্পদের মধ্যে ভালো সমাধান বের করতে পারে এবং প্রয়োজনে প্রচলিত পদ্ধতিকে প্রশ্ন করতে পারে। এই পরিবর্তনের জন্য শ্রেণি কক্ষের শিক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী যদি বলে, ‘মানুষ আমার পণ্যটি কিনবে’, শিক্ষকের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘তুমি কি নিশ্চিত?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘তুমি কীভাবে জানো?’ তার পরের প্রশ্ন, ‘তুমি কীভাবে সেটি পরীক্ষা করতে পারো?’ এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে ভবিষ্যতের ব্যবসা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন লুকিয়ে আছে। শিক্ষার্থীকে আত্মবিশ্বাসী দাবি করতে শেখানোর চেয়ে প্রমাণ খুঁজতে শেখানো জরুরি। ‘আমার ধারণাটি ভালো’ বলার চেয়ে ‘কোন তথ্যের ভিত্তিতে আমি মনে করছি ধারণাটি ভালো’, এই চিন্তার অভ্যাস তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তা শিক্ষা তখন আর মোটিভেশনাল বক্তৃতা থাকে না; এটি হয়ে ওঠে অনুসন্ধান, পরীক্ষা, প্রমাণ এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা।
এ জন্য অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং, অর্থনীতি বা কৌশলের গুরুত্ব কমানোর প্রয়োজন নেই। বরং এগুলোকে বাস্তব সমস্যার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে হবে। অ্যাকাউন্টিং শেখার পর শিক্ষার্থীকে সেই তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে। মার্কেটিং শেখার পর বাস্তব বা সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে অনুমান পরীক্ষা করতে হবে। ফাইন্যান্স শেখানোর সময় শুধু ঋণের সুবিধা নয়, ঋণের দায় এবং ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতিও বুঝতে হবে। কৌশল শেখানোর সময় অসীম সম্পদের কাল্পনিক প্রতিষ্ঠান নয়, সীমিত অর্থ, সময় ও মানুষের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের অভিজ্ঞতা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে তাই ‘জানা’ থেকে ‘করা’র দিকে, এবং ‘করা’ থেকে ‘বিচার করে করা’র দিকে এগিয়ে নিতে হবে। জ্ঞান অবশ্যই ভিত্তি। কিন্তু জ্ঞান তখনই শক্তিতে পরিণত হয়, যখন একজন মানুষ তা ব্যবহার করে নতুন পরিস্থিতি বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং প্রয়োজন হলে নিজের ধারণা সংশোধন করতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যবসা শিক্ষার সাফল্য তাই শুধু কতজন গ্র্যাজুয়েট বহুজাতিক কোম্পানি বা ব্যাংকে চাকরি পেলেন, কিংবা কতজন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করলেন, এই পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে যথেষ্ট হবে না। আমাদের আরও কিছু প্রশ্ন করতে হবে। কতজন শিক্ষার্থী একটি সমস্যা দেখে সম্ভাবনা চিনতে শিখলেন? কতজন সীমিত সম্পদ দিয়ে সমাধান তৈরির আত্মবিশ্বাস অর্জন করলেন? কতজন অর্থ ও ঝুঁকি সম্পর্কে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে শিখলেন? কতজন নিজের অনুমানকে তথ্য ও প্রমাণের সামনে পরীক্ষা করতে শিখলেন? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, কতজন একটি লাভজনক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েও প্রশ্ন করতে শিখলো, এটি করা সম্ভব, কিন্তু এটি করা কি উচিত? ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে সবচেয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হয়তো সে নয়, যে শুধু জানে একটি সফল প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হয়। বরং সে, যে বুঝতে পারে কোথায় সমস্যা আছে, কোথায় নতুন মূল্য সৃষ্টির সুযোগ আছে এবং সেই মূল্য কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে সৃষ্টি করা যায়। আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উদ্যোক্তা বানানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উদ্যোগী, অনুসন্ধিৎসু, আর্থিকভাবে সচেতন, প্রমাণ নির্ভর এবং নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ব্যবসা শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যমান অর্থনীতির জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি করা নয়। এমন মানুষ তৈরি করা, যারা সেই অর্থনীতিকে আরও উদ্ভাবনী, দায়িত্বশীল এবং মানবিক করে তুলতে পারে।
লেখক: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শিক্ষক, গবেষক এবং কলামিষ্ট


