বাংলাদেশে একসময় প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধানের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার সময় এয়ারপোর্টে কথিত সংবর্ধনা দেওয়ার নামে যে জনভোগান্তির চিত্র দেখা যেত, তা ছিল এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। ফ্লাইট অবতরণের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই এয়ারপোর্ট রোড তথা ঢাকার প্রধান সড়কগুলো অচল হয়ে যেত। অবস্থা এমন হতো যে মহাখালী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত অফিসগামী, বিদেশগামী কিংবা জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে সমালোচনা হলেও নেতারা কেবল লোক দেখানো দুঃখ প্রকাশ করতেন; পরবর্তী সফরে আবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটত।
কিন্তু সময় বদলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে এয়ারপোর্টে সংবর্ধনার নামে জনহয়রানির যে বন্ধ্যাত্ব শুরু হয়েছিল, তা আজ রাজনৈতিক সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। আজ জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দেশে ফিরেছেন, তখন সড়কে কোনো অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, কোনো জনসমাগম কিংবা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখা যায়নি। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেলেও সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে টের পায়নি যে কোনো উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব দেশে ফিরেছেন।
এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সংস্কার। গণতান্ত্রিক শুভবোধ ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া সত্যিই ইতিবাচক। হয়রানি করে, মানুষকে জিম্মি করার এই কুসংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পদভারে এয়ারপোর্ট রোড যেন ফের জনভোগান্তির কারণ না হয়—এই সংশয় কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রীয় সৌজন্য প্রদর্শন ও জনসেবার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
আমরা এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে আশা করি, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সফর হবে জনগণের দুর্ভোগের কারণ নয়, বরং জনস্বার্থ রক্ষার প্রত্যয়। এই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্কতার পরিচয় বহন করে।


