সম্প্রতি কুষ্টিয়া-৩ তথা সদর আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিজেকে আগামী ৫ বছরের জন্য এই আসনের ‘প্রধানমন্ত্রী’হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেকদিকে টাংগাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম নিজ নির্বাচনী এলাকার বনবিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বদলি করতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিতে দেখা যায় স্থানীয় এলাকার সংসদ সদস্য বলে। এটি একটি প্রচলিত বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়: সংসদ সদস্যরা (এমপি) আইন প্রণেতা থেকে স্থানীয় ‘হর্তকর্তা’তে পরিণত হচ্ছেন। কিন্তু সংবিধান কী বলে এবং বাস্তবতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে গভীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। সাংবিধানিক কাঠামো: এমপি আইন প্রণেতা, শাসক নন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ…
Author: নাহিদ হোসেন
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ ও তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি—এমন আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যদিও বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও আলোচনার সূত্রপাত লন্ডনপ্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। খবরের চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে—জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতি করার যৌক্তিকতা ও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, সংকটময় এই সময়ে একজন আমলাকে রাষ্ট্রপ্রধান করা কি দেশের জন্য মঙ্গলকর, নাকি গণতান্ত্রিক চর্চায় দলীয় শক্তিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত? রাষ্ট্রপতির পদ: সংবিধান ও বাস্তবতা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন এবং তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর। বাংলাদেশে এই…
চার বছর পরপরই বাংলাদেশে আছড়ে পড়ে এক অদ্ভুত জ্বর–‘বিশ্বকাপ জ্বর’। ২০২৬-এর এই আসরে জ্বরের তাপমাত্রা যেন আরও চড়া। ৪৮ দেশের অংশগ্রহণ, মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও চলছে জার্সি-পতাকা নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি; অফিস-বাসাবাড়ি-ভার্সিটির হল থেকে গ্রামের চায়ের দোকান—সবখানে একই দৃশ্য। অথচ এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নামের কোনো দল নেই, কবে আসবে তার আভাসও নেই। যে দেশ, যে দল, যে খেলোয়াড়দের জন্য এত পাগলামি, তারা এদেশের কারও নামই জানে না, চেনেও না। তবু এদের সমর্থন করতেই রাত জাগা, অর্থ-শ্রম-সময়-মেধা উজাড় করে দেওয়া, তর্কে জড়িয়ে মারামারি পর্যন্ত করা—পুরো ব্যাপারটাই কেমন যেন স্ববিরোধী। প্রশ্ন জাগে, এই উন্মাদনা কি আসলে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, নাকি হুজুগে গা ভাসানো? নাকি…
২০২৬ সালের ১৯ জুন, আষাঢ়ের ঝড় ঝড় বাদল দিনে বাংলার সাহিত্য-সাংবাদিকতার আকাশ নেমে এলো শোকের ঘনকৃষ্ণ মেঘে। একুশে পদকপ্রাপ্ত অসামান্য এই সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও ধ্রুপদী সাহিত্যের কবি আল মুজাহিদী চিরতরে বন্ধ করে দিলেন তার চোখের দুটি তারা, চলে গেলেন মহাজাগতিক সফরে। তার বিদায় শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়; এটি একটি যুগের অবসান, একটি সংগ্রামী চেতনার নীরবতা, একটি কলমের থমকে যাওয়া। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে সাহিত্যের গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়া কবি আল মুজাহিদী ছিলেন বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। ছাত্রলীগ থেকে ‘পাকিস্তান’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘বাংলা ছাত্রলীগ’ প্রতিষ্ঠার যে সাহসী উদ্যোগ, তা ছিল এক অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাকামী জাতির…
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার বর্তমান প্রেক্ষাপট অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যময়। এক দিকে সরকারি ব্যবস্থায় সাধারণ ও আমলা নির্ভর শিক্ষা চালু আছে, অন্যদিকে টেকনিক্যাল, প্রযুক্তি ও মাদ্রাসাশিক্ষার চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে চার ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—শিক্ষানুরাগী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষা ব্যবসায়ী। এঁদের প্রত্যেকের অবস্থান, লক্ষ্য ও প্রভাব আলাদা, কিন্তু উচ্চশিক্ষার প্রসারে এঁদের সম্মিলিত অগ্রযাত্রা অপরিহার্য। শিক্ষানুরাগী: মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারিগর শিক্ষানুরাগী সেই ব্যক্তি, যিনি লাভের চেয়ে জ্ঞান ও সমাজসেবাকে প্রাধান্য দেন। তিনি সাধারণত ব্যক্তি উদ্যোগে বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পুরোনো আমলের ধনীক শ্রেণির মতো তিনিও নিজের বা সমবেত অর্থ বিনিয়োগ করেন, কিন্তু বিনিময়ে প্রত্যক্ষ মুনাফা প্রত্যাশা করেন…
কদিন আগেও রামিসা ছিল ফুলের মতো কোমল এক শিশু। কিন্তু গত কয়েকদিনের সংবাদ শিরোনামে সে কেবলই একটি সংখ্যা; মা-বাবার চোখের জল হয়ে আছে সে–এক নৃশংস ধর্ষণের শিকার হয়ে আজ সে বেঁচে নেই। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিদিন এমন রোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে, যার হিসাব রাখার ক্ষমতাও যেন আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা চিৎকার করি, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই, বিচার চাই’। কিন্তু এই বিচারের পরেও আবার কেন একই ঘটনা ঘটে? কেন প্রতিদিন নতুন নতুন রামিসা, নতুন নতুন জাহাঙ্গীরনগরের সেই ছাত্রী ট্র্যাজেডির চরিত্র হয়ে ফিরে ফিরে আসে? উত্তর একটাই। আমরা বিচারের দাবি জানাই, কিন্তু…
আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তারিখটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি আহূত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ওইদিন। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পর একটি নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদ পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর সংসদে একটি সক্রিয় ও শক্তিশালী বিরোধীদল তাদের আসন গ্রহণ করতে চলেছে। এই দৃশ্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি মাইলফলক। দ্বাদশ সংসদের পতনের পথপরিক্রমা ছিল বেদনাদায়ক। টানা তিনটি সংসদ প্রকৃত বিরোধী দলবিহীন সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যত এক দলীয় শাসনে পরিণত হয়েছিল। মূলত স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে প্রকৃত সংসদ প্রতিষ্ঠা হতে পারেনি। এমনিতেই ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর সংসদীয় ব্যবস্থায়…
নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্তৃত্বপরায়ন শাসন ও বিতর্কিত নির্বাচনী অভিজ্ঞতার পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন প্রজন্মের প্রজন্মের আন্দোলনে একটি পরিবর্তনের সূচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি সংস্কারমূলক অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এসেছে, যার ম্যান্ডেট ছিল সংস্কার, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। প্রায় দেড় বছর ধরে এই সরকার রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখন, সেই রূপান্তরকালীন যাত্রার চূড়ান্ত পরীক্ষা হলো ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা শেষ, দেশ এখন নীরব। কিন্তু এই নীরবতার আড়ালে সারা দেশে এক চাপা আতঙ্ক, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার…

